মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে বলে সোমবার মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি ইরানের সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর এই মন্তব্য করলেন।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে ইরানের অবস্থান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবার শুরু করার জন্য দ্রুত কোনো সমঝোতার আশা কার্যত ভেস্তে যায়।
ইরানের জবাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ বা পুরোপুরি জয় অর্জন করবে।
তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। ঠিক যেমন মুমূর্ষু রোগীর আত্মীয়-স্বজনের সামনে এসে চিকিৎসক বলেন— আপনার প্রিয় মানুষটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এখন মাত্র ১ শতাংশ।
ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর কিছুক্ষণ পরেই বলেন যে, তার দেশ ‘যে কোনো পরিস্থিতির জন্য’ প্রস্তুত রয়েছে। গালিবাফ ওয়াশিংটনের সঙ্গে পূর্ববর্তী আলোচনায় প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো আগ্রাসনের জবাব ও উপযুক্ত শিক্ষা দিতে প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘খারাপ কৌশল ও ভুল সিদ্ধান্ত সব সময় খারাপ ফল বয়ে আনে, যা বিশ্ব ইতোমধ্যে বুঝে গেছে।’
পারস্য উপসাগরে যুদ্ধ ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে ইতোমধ্যেই বিপর্যস্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এই নতুন পরিস্থিতিতে আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালী তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। এখানে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকো’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের বিনিয়োগকারীদের বলেন, ‘বছরের প্রথম প্রান্তিকে শুরু হওয়া জ্বালানি সরবরাহের ধাক্কা এখন পর্যন্ত বিশ্বে দেখা সবচেয়ে বড় সংকট।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আজ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়, তাহলেও বাজারের ভারসাম্য ফিরে আসতে কয়েক মাস সময় লাগবে এবং যদি এটি খুলতে আরও কয়েক সপ্তাহ দেরি হয়, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে।’