1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

ঈদে বন্দীপ্রতি অতিরিক্ত বরাদ্দ ২২৫ টাকা, সেমাই-পায়েসের সঙ্গে ছিল গরু-খাসিও

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

কারাগারে বন্দীদের প্রতিদিনের খাবারের জন্য বরাদ্দ থাকে ১০৮ টাকা করে। পবিত্র ঈদুল আজহায় বিশেষ খাবার দিতে প্রত্যেক বন্দীর জন্য অতিরিক্ত ২২৫ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সে টাকার একটি অংশ দিয়ে কোরবানির জন্য গরু, খাসি কেনে কারা কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে মুরগির রোস্ট, সেমাই, পায়েসেরও ব্যবস্থা করা হয়।

কারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা বছর সাধারণ বন্দীরা সকালে হালুয়া, রুটি ও ডিম খান। দুপুরের খাবারে থাকে ভাত, ডাল ও সবজি। আর রাতে দেওয়া হয় ভাত, ডাল, মাছ বা গরুর মাংস। আর ডিভিশন পাওয়া বন্দীদের ক্ষেত্রে তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে।

ঈদের দিন সাধারণ বন্দী থেকে শুরু করে ডিভিশন পাওয়া ভিআইপি বন্দী—সবাইকে একই ধরনের খাবার সরবরাহ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। সকালে বন্দীরা খেয়েছেন সেমাই, পায়েস ও মুড়ি। দুপুরে বন্দীদের পাতে ছিল পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট ও সালাদ। সঙ্গে মিষ্টি ও পান-সুপারি।

কারাগারে রান্না করা খাবারের পাশাপাশি ঈদের দিন স্বজনদের আনা বাড়ির খাবারও খাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বন্দীরা। ঈদের দিন ও পরবর্তী দুই দিন, অর্থাৎ আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত দিনে একবার বন্দীরা এ সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মুসলিম বাদে অন্য ধর্মাবলম্বী বন্দীদের ঈদের দুপুরে গরুর বদলে খাসির মাংস খেতে দেওয়া হয়েছে। রাতে পরিবেশন করা হয় সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা।

কারাগারে রান্না করা খাবারের পাশাপাশি ঈদের দিন স্বজনদের আনা বাড়ির খাবারও খাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বন্দীরা। ঈদের দিন ও পরবর্তী দুই দিন, অর্থাৎ আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত দিনে একবার বন্দীরা এ সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

পবিত্র ঈদুল আজহায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বন্দীদের জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

পবিত্র ঈদুল আজহায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বন্দীদের জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানছবি: কারা কর্তৃপক্ষের সৌজন্যে

ভিআইপি বন্দী কতজন

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মিলিয়ে ২০৭ জন কারাগারে বন্দী আছেন। তাঁদের মধ্যে ডিভিশন পেয়েছেন ১৭৯ জন। এ তালিকায় সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী আছেন ৩২ জন। সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৪১ জন। ডিভিশন না পেলেও ভিআইপি হিসেবে কারাগারে আছেন আরও ২৮ জন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার কারাগারে পবিত্র ঈদুল আজহা কাটালেন।

মুঠোফোনে কথা বলার সুযোগ

পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের কারাগারগুলোতে থাকা বন্দীদের জন্য আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রীতি ফুটবল-ক্রিকেট ম্যাচ।

বন্দীরা ঈদের দিন ও পরের দুই দিন একবার করে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন। এ সময় স্বজনদের অনেকেই প্রিয়জনের জন্য বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসছেন। সেটাও কারাগারে নেওয়া যাচ্ছে। সচরাচর প্রতি ১৫ দিনে একবার বন্দীরা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

ঈদের দিন ও পরের দুই দিনের মধ্যে বন্দীদের জন্য একবার স্বজনদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সুযোগ রেখেছে কারা কর্তৃপক্ষ। তাঁরা সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট মুঠোফোনে কথা বলতে পারবেন। এ জন্য কোনো খরচ দিতে হবে না।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের দিন সকালে দেশের কারাগারগুলোর ভেতরেই ঈদুল আজহার জামাত হয়েছে। বন্দীরা একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন।

জান্নাত-উল ফরহাদ আরও বলেন, এবারের ঈদুল আজহায় প্রত্যেক বন্দীর জন্য উন্নত খাবার সরবরাহ করার জন্য অতিরিক্ত ২২৫ টাকা করে বরাদ্দ ছিল। ঈদের পরদিন (আজ শুক্রবার) প্রতিটি কারাগারের ভেতরে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা মেনে বন্দীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আজহায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরের অংশ সাজিয়ে তোলা হয়

পবিত্র ঈদুল আজহায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরের অংশ সাজিয়ে তোলা হয়ছবি: কারা কর্তৃপক্ষের সৌজন্যে

ঢাকার কারাগারে যা হলো

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১০ হাজারের বেশি বন্দী রয়েছেন। কারাগারের বাইরে থাকা কারা কর্মচারীদের মসজিদের একজন ইমাম কারাগারের ভেতরে গিয়ে ঈদের জামাতে ইমামতি করেছেন। ভিআইপি বন্দীদের নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে নির্মিত বিশেষ কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় বলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ফারুক আহমেদ জানান।

এই কারা কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীদের মধ্যে শিল্পীও আছেন। তাঁরা আজকের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন। বাছাই করা বন্দীদের সঙ্গে কারা কর্মচারীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে। আর আগামী রোববার বন্দী ও কারা কর্মচারীদের মধ্যে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ হবে।

ঈদে বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা নারী ও পুরুষ স্বজনদের কোমল পানীয় ও ফলের রস (জুস) দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। স্বজনদের সঙ্গে থাকা শিশুদের দেওয়া হয় চিপস ও চকলেট।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun