1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন

নাটোরের জনজীবনে তালের শাঁসে স্বস্তি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

কোমল আবরণের ভেতরে যেন লুকানো তরল পানীয়-এই হচ্ছে তালের শাঁস। সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত সুস্বাদু এই ফল মধুমাসকে পূর্ণতা দিয়েছে। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র এখন তালের শাঁসের বেচা-কেনা। নাটোর যেন এখন তালের শাঁসের সাম্রাজ্য। গ্রীষ্মের তাপদাহে তালের শাঁসেই যেন জনজীবনে স্বস্তি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় তাল গাছের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার হলেও ফলবিহীন এবং পুরুষ গাছ বাদে ফলবান তাল গাছের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। এক একটি তাল গাছ থেকে গড়ে ৩শ’ কাঁচা তাল পাওয়া গেলে চলতি মৌসুমে জেলায় ৬০ লক্ষ পিস কাঁচা তাল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি তালে চোখের সংখ্যা তিনটি। অর্থাৎ মোট এক কোটি ৮০ লক্ষ পিস তালের চোখ উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিটি চোখের মূল্য চার টাকা হারে অন্তত ৭ কোটি টাকার অর্থনীতি।

এক দশকের অধিক সময় ধরে তালের শাঁসের মৌসুমী ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম। মৌসুমের শুরুতে তাল গাছ কিনে নিয়ে নিজেই গাছ থেকে তাল কেটে আনেন। শহরের নীচাবাজার এলাকায় ফারুক ষ্টোরের সামনে প্রতিদিন এক ভ্যান তালের শাঁস বিক্রি করেন তিনি।

আরিফ জানান, চলতি মৌসুমে ১৭টি গাছ কিনেছি। এক একটি গাছের ক্রয় মূল্য ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। এক একটি তালের চোখ বিক্রি করছি পাঁচ টাকায়। অর্থাৎ একটি তালের মূল্য ১৫ টাকা।

তবে শহরতলী এবং গ্রাম এলাকাতে তালের শাঁসের দাম কিছুটা সস্তা। মহারাজা স্কুল মাঠের পাশে তালের শাঁসের ব্যবসায়ী তবারক হোসেন বাসস’কে জানান, প্রতি পিস তাল বিক্রি করছি ১০ টাকায়। ‘প্রতি পিস তাল বিক্রি করছি দশ টাকা দরে’-বললেন সিংড়া উপজেলার বড় সাঁঐল গ্রামের ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান।

তালের শাঁসের নিয়মিত ক্রেতা আহমেদুল কবীর জানান, তালের শাঁস রাসায়নিকমুক্ত, তাই সম্পূর্ণ নিরাপদ। এই ফলের বেশীরভাগটা পানীয়। তাই প্রচন্ড গরমে এটি গ্রহণে শরীরে স্বস্তি নিয়ে আসে। তাই নিয়মিত কিনি।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুপা জানান, তালের শাঁস অনেক মজাদার, অনেক উপকারী। পরিবারের সব সদস্য সহকারে প্রতিদিন তালের শাঁস খাই। এ সময় অতিথি আপ্যায়নে তালের শাঁস পরিবেশন করলে অতিথিরাও খুশী হন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফুল ইসলাম বাসস’কে জানান, গবেষণায় দেখা গেছে তালের শাঁস কার্বোহাইড্রেট, ডায়েটারি ফাইবার, ফ্যাট, অ্যামিনো এসিড এবং প্রোটিনের ভালো উৎস। ম্যাক্রো ও মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বিশ্লেষণে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক এবং আয়রনের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আছে ভিটামিন ডি-৩, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন কে।

ডা. সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, এন্টিইনফ্লেমেটরি, এন্টিব্যাকটেরিয়াল, এন্টিঅক্সিডেন্ট, এন্টিবায়োটিক এবং এন্টিহাইপারলিমিডেমিক কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। এই শাঁসে ২৩টি ডায়াবেটিস বিরোধী পিথো কেমিকেল আছে এবং এর উপাদানগুলো রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এটি কিডনী ও মুত্রনালীর উপকার করে, হৃদযন্ত্র ভালো রাখে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, ত্বকের উপকার করে, প্রদাহ রোধ করে, জ্বরে উপকার করে। তালের শাঁসের গুণের কোন শেষ নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বাসস’কে বলেন, তালের শাঁস রাসায়নিকমুক্ত সুস্বাদু উপকারী ফল। জেলায় নতুন করে তাল গাছ রোপনের প্রেক্ষাপটে তাল গাছের

সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সময়ে তালের শাঁস বিক্রির সাথে জড়িত অনেক মানুষের মৌসুমী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun