1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় চট্টগ্রামে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ চট্টগ্রামের খুলশী থানার উপ পরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

একই ঘটনায় এসআইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ (শনিবার) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

এর আগে গতকাল (শুক্রবার) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। পরে নাঈমকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এই ক্রিকেটার।

নাঈম হাসান সাংবাদিকদের জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রামে ফেরার কথা ছিল। তবে ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাত ১০টা ২০ মিনিটে। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ সদস্যরা তাদের থামান।

নাঈমের অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে অটোরিকশার চালকের কাগজপত্র নিয়ে নেন। এরপর তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্র দেখান। তারপরও খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সাদা পোশাকধারী সোহেল নামের এক ব্যক্তিও তাকে পাইপ দিয়ে মারধর করেন।

নাঈম বলেন, ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে তার ক্রিকেটার পরিচয় নিশ্চিত করলেও অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মারধর বন্ধ করেননি। একপর্যায়ে তাকে অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এরপর তাকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওসির কক্ষেও তিনি হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন নাঈম।

তিনি জানান, থানায় যাওয়ার পর নিজের মোবাইল ফোন ফেরত পেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বিসিবির পক্ষ থেকে পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে নাঈম বলেন, তার পরিচিতি থাকায় অনেকে থানায় ছুটে এসেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এমন সহায়তা নাও মিলতে পারে। তাই ভবিষ্যতে যেন কাউকে এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, একটি অটোরিকশায় চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে সেই তথ্যের সত্যতা এবং অভিযানের আগে প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কিছু ভুলত্রুটির বিষয় সামনে এসেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ছুটিতে থাকা খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম একটি গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিকুল ইসলামকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনার চোরাচালানের বিষয়ে অবহিত করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এদিকে, নাঈমের বাবা মাহবুবুল আলম অভিযোগ করেন, ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি থানায় গেলে ডিউটি অফিসার তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে থানায় নাঈমের স্বজন ও ক্রিকেটপ্রেমীরা জড়ো হন। তারা জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।

সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও অপহরণচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে আগে অবহিত করেননি। থানায় আনার পর তিনি নাঈমের পরিচয় জানতে পারেন। পরে দুঃখ প্রকাশ করে তাকে সম্মানের সঙ্গে চলে যেতে অনুরোধ করা হয়। তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত স্বজনরা থানায় অবস্থান করেন। পরবর্তীতে মামলা দায়ের হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে অংশ নেওয়া আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun