কোডি গাকপো এবং ব্রায়ান ব্রবের জোড়া গোলে সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের দুর্দান্ত জয় নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ডাচরা তাদের শক্তিমত্তার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
প্রায় ৬৯ হাজার দর্শকের সামনে ছিনিয়ে নেয়া এই জয় নেদারল্যান্ডসকে নকআউট পর্বের একেবারে দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। প্রথম ম্যাচে উজ্জীবিত জাপানের বিপক্ষে ড্র করার পর দলটি নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
রোনাল্ড কোম্যানের দল দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষে রয়েছে। সুইডেনের সংগ্রহ তিন পযয়েন্ট।
হারের পরও সুইডেন বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রাগেনের দুর্দান্ত সেভ এবং নিজেদের দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে তারা সফল হতে পারেনি।
তবে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা এখনও সুইডেনের জন্য উজ্জ্বল।
সান্ডারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবে এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পান এবং ৫ ও ১৭ মিনিটে গোল করে কোচ কোম্যানের আস্থার প্রতিদান দেন। ২৪ বছর বয়সী ব্রবে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর গত তিন বছরে দেশের হয়ে মাত্র একটি গোল করেছিলেন। এই ম্যাচে তিনি সেই পরিসংখ্যান অনেকটাই সমৃদ্ধ করেন।
প্রিমিয়ার লিগের তারকায় ভরা ম্যাচটিতে লিভারপুলের কোডি গাকপোর এ্যাসিস্টে প্রথম গোলের দেখা পান ব্রবে। দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই গাকপো দুটি গোল করেন।
ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়াার আগে বদলি খেলোয়াড় অ্যান্থনি এলাঙ্গা সুইডেনের হয়ে একটি গোল শোধ দেন। তবে শেষের দিকে ডাচদের পঞ্চম গোলটি করেন ক্রিসেনসিও সামারভিলে।
শিরোপা অভিযানের প্রথম ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করা নেদারল্যান্ডস কালকের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। কমলা রঙে সজ্জিত সমর্থক এবং নেদারল্যান্ডসের রাজা উইলেম-আলেকজান্ডার-এর উপস্থিতিতে দলটি উজ্জীবিত ছিল।
জাপানের বিপক্ষে গোল করা সামারভিলের পরিবর্তে ব্রবেকে নামানো হয়েছিল। ম্যাচের প্রথম গোলটি করে সেই সিদ্ধান্তকে তিনি সঠিক প্রমাণ করেন। গোলটি ছিল প্রিমিয়ার লিগের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল। গোলরক্ষক ফারব্রাগেন, মিডফিল্ডার তিজিয়ানি রেইনডার্স এবং গাকপো সবাই আক্রমণ গঠনে ভূমিকা রাখেন। গাকপোর সঙ্গে বল আদান প্রদান করে ব্রবে বক্সে ঢোকেন। এরপর গাকপোর নিচু ক্রস থেকে কাছ থেকে বল জালে পাঠান তিনি।
প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারানো সুইডেন ব্রবের শারীরিক শক্তির সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। অন্যদিকে লিভারপুলের আলেকজান্ডার ইসাক এবং আর্সেনালের ভিক্টর গিওকেরেসকে নিয়ে গড়া সুইডেনের আক্রমণভাগ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল।
প্রথম গোলের ১২ মিনিট পর ব্রবে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। ডেনজেল ডামফ্রাইসের ডিফ্লেক্টেড ক্রস তার সামনে চলে এলে তিনি তা জালে পাঠিযয়ে ব্যবধান দ্বিগুন করেন।
সুইডেনের ইংলিশ কোচ গ্রাহাম পটার তখন তার সহকারী কোচদের সঙ্গে গভীর আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন, কারণ ম্যাচটি দ্রুতই তাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল।
হাইড্রেশন বিরতির সময় পটার বিশেষভাবে লিডস ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল গুডমুন্ডসনের সঙ্গে কথা বলেন, যিনি ডামফ্রাইসস ও ডোনিয়েল মালেনের গতির সামনে বারবার বিপদে পড়ছিলেন।
সুইডেন এরপর তাদের সেরা সুযোগটি পায়। গিওকেরেসের ক্রস থেকে সম্পূর্ণ ফাঁকা অবস্থায় থাকা ইয়াসিন আয়ারি বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর গিওকেরেসও একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। ইসাকের পাস থেকে সুযোগ পেলেও তিনি বল ঠিকমতো স্পর্শ করতে পারেননি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে গিওকেরেস ও আয়ারি আরও কয়েকবার গোলের সুযোগ পেলেও নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক ফারব্রুগেন দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
বিরতিতে কোম্যান মালেনের পরিবর্তে সামারভিলকে নামান। আর মাত্র দুই মিনিট পর সুইডেনের জন্য ম্যাচটি কার্যত অসম্ভব হয়ে যায়। ডামফ্রাইসের আরেকটি নিচু ক্রস থেকে গাকপো পোস্টের কাছ থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন।
ডাচদের প্রথম তিনটি গোলই প্রায় একই ধরনের আক্রমণ থেকে আসে।
৫৪ মিনিটে গাকপো নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করেন। ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে বল জালের নিচের কোণে পাঠান তিনি। পাঁচ মিনিট পর নটিংহাম ফরেস্টের উইঙ্গার অ্যান্থনি এলাঙ্গা একক প্রচেষ্টায় গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমান।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে ওয়েস্ট হ্যামের সামারভিল নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ গোলটি করে নেদারল্যান্ডসের ৫-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন।
পরবর্তী ম্যাচে সুইডেন জাপানের মুখোমুখি হবে, আর নেদারল্যান্ডস খেলবে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে।