সুদানের এল-ওবেইদ শহরে গণহত্যাসহ ব্যাপক নৃশংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে শহরটি ঘিরে রাখা আধাসামরিক বাহিনীকে পিছু হটার আহ্বান জানিয়েছে।
দক্ষিণের কর্দোফান অঞ্চলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর এল-ওবেইদ। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে নিয়মিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) কয়েক মাস ধরে শহরটি অবরোধ করে রেখেছে।
জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, এল-ওবেইদে ব্যাপক নৃশংসতার ‘আসন্ন ঝুঁকি’ নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। পরিষদ আরএসএফকে অবিলম্বে শহরটির ওপর হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
জাতিসংঘ আগে থেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে এল-ফাশার শহরে সংঘটিত নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি এল-ওবেইদেও ঘটতে পারে।
সংস্থাটির মতে, এল-ফাশারে সংঘটিত ওই হামলায় ‘গণহত্যার লক্ষণ’ ছিল।
জাতিসংঘ শুক্রবার জানায়, সুদানে মহাসচিবের বিশেষ দূত পেক্কা হাভিস্তো বিদ্রোহী আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলোর সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি তাকে এল-ওবেইদে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, হাভিস্তো এল-ওবেইদের পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনা মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে আহ্বান জানিয়েছেন, যা ইতোমধ্যেই ভয়াবহ মানবিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে এবং বেসামরিক মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
দুজারিক জানান, শহর ছেড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা মাথায় রেখে ত্রাণকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মানবিক সহায়তাকর্মীরা দায়িত্বশীল আচরণ করছেন। তারা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে সেরা ফলাফলের প্রত্যাশাও করছেন।’
দুজারিক আরও বলেন, হাভিস্তো সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর ওপর প্রভাব রয়েছে এমন দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। তার লক্ষ্য সংলাপ উৎসাহিত করা এবং সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো।