মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দেশটির ঐতিহাসিক স্থান মাউন্ট রাশমোরে সফরের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর উদযাপন শুরু করতে যাচ্ছেন। মাউন্ট রাশমোরে আমেরিকার কিংবদন্তি চারজন প্রেসিডেন্টের মুখমণ্ডল খোদাই করা রয়েছে। অনেকেই ধারণা করেন, ট্রাম্প এই পর্বতটিতে পাথরের বুকে নিজের মুখমণ্ডল খোদাই করা দেখতে চান।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন ট্রাম্প দক্ষিণ ডাকোটার জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ মাউন্ট রাশমোরে গ্রানাইট পাথরে খোদাই করা তার চার কিংবদন্তি পূর্বসূরি প্রেসিডেন্টের বিশাল ভাস্কর্যের নিচে ভাষণ দেবেন।
নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা প্রেসিডেন্ট মনে করা ট্রাম্পের জন্য এ আয়োজনকে প্রতীকী বলেই মনে করা হচ্ছে। শুরু থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এ বার্ষিকীকে নিজের মতো করে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন।
রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের সমর্থকেরা তার মুখাবয়বও জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, আব্রাহাম লিংকন ও থিওডোর রুজভেল্টের ভাস্কর্যের পাশে খোদাই করার প্রস্তাব দিয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসে রাজধানী ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে নির্বাচনী প্রচারণার আদলে একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ করবেন ট্রাম্প। এ সময় সামরিক যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন প্রদর্শনী এবং তার ভাষায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতশবাজির আয়োজনও থাকবে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মিডিয়ার পরিচালক পিটার লোগে এএফপিকে বলেন, ‘ট্রাম্প আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পছন্দ করেন। আমার মনে হয়, তিনিও সেটিই করার চেষ্টা করছেন।’
তবে জাতীয় ঐক্যের এ সময়ে ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে বিভক্ত। ইরান যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা প্রায় ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বীরা অভিবাসননীতি, পারিবারিক সম্পদ এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আরও বাড়ানোর চেষ্টার জন্য তাকে কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছেন।
আড়াই শতাব্দীর ইতিহাসে সাফল্য-ব্যর্থতা, দাসপ্রথা ও স্বাধীনতা, গৃহযুদ্ধ ও বিশ্বযুদ্ধের নানা অধ্যায় অতিক্রম করা দেশটিতে জরিপ বলছে, ‘আমেরিকান ড্রিম’ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে অনেক নাগরিকই হতাশ।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বর্ণিত আদর্শ অনুসারে দেশটি চলছে না। তবে এ বিষয়েও রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট। অধিকাংশ রিপাবলিকান মনে করেন দেশটি সেই আদর্শ মেনে চলছে। বিপরীতে অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট তা মনে করেন না।