1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সাংবাদিক জামালের ওপর সন্ত্রাসী হামলা গাজীপুর কাশিমপুরে দুই সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা রাজধানীসহ সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক ক্যাম্পাসের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করলেন ভিসি নওগাঁয় ৮২ শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল, ৫৫ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ১১.২৫ লাখ ইউরোর প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি করলো বাংলাদেশ-আইওএম দেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের সবার : প্রতিমন্ত্রী টুকু ডেপুটি স্পিকারের সহযোগিতায় শিশুর হৃদরোগের সফল অস্ত্রোপচার জাতিসংঘের নেতৃত্বের দৌড়ে ৬ প্রার্থী

সাংবাদিক জামালের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

বিউটি খাতুন, স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

গাজীপুরে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে হামলার শিকার সাংবাদিক জামাল আহমেদ; হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি সাংবাদিক সমাজের গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে এক সাংবাদিকের ওপর পরিকল্পিত নৃশংস হামলা, হত্যাচেষ্টা এবং সংবাদ সংগ্রহের মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হন দৈনিক জনবানী জাতীয় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, চ্যানেল এস টেলিভিশনের কাশিমপুর প্রতিনিধি এবং কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল আহমেদ প্রধানিয়া। একই ঘটনায় আহত হন তাঁর সহকর্মী সাংবাদিক মো. ইমরুল ইসলাম।


ভুক্তভোগী সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ বিকেল প্রায় ২টার দিকে মোটরসাইকেলে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ পানিশাইল পালাশ হাউজিং এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের হাতে লোহার রড, গ্যাস লাইনের পাইপ, হকি স্টিক, শক্ত বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম ছিল। কোনো ধরনের কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তারা দুই সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এক হামলাকারী লোহার রড দিয়ে সাংবাদিক জামাল আহমেদের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলে তাঁর বাম হাতের কব্জির হাড় ভেঙে যায়। অপর একজন হকি স্টিক দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে সেটি ডান কাঁধে আঘাত হানে এবং কাঁধের হাড় ভেঙে যায়।
এতেই ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা জোরপূর্বক সাংবাদিকের ব্যবহৃত Tecno Camon 50 Ultra (12/256GB) ও Vivo Y21d (8/128GB) মডেলের দুটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। মোবাইল দুটিতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ-সংক্রান্ত তথ্য, ব্যক্তিগত ডাটাবেজ এবং পেশাগত নথি সংরক্ষিত ছিল।
এছাড়াও একটি ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ব্যাগে ছিল দৈনিক জনবানী ও চ্যানেল এসের অফিসিয়াল প্রেস আইডি কার্ড, দুটি অফিসিয়াল বুম, একটি কর্ডলেস মাইক্রোফোন, একটি Panasonic AG-CX350 4K ভিডিও ক্যামেরা (লেন্সসহ), নগদ ১৮ হাজার টাকা, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং সংবাদ সংগ্রহের বিভিন্ন সরঞ্জাম। অভিযোগ অনুযায়ী, লুট হওয়া সরঞ্জামের মূল্য কয়েক লাখ টাকা।
হামলার সময় সাংবাদিকদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হত্যার হুমকি দিয়ে তিনটি প্রাইভেটকারে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সিসিটিভি ফুটেজ ঐ এলাকার প্রত্যেকটা বাড়ির সামনে ক্যামেরাগুলোতে সংরক্ষিত আছে। এবং মারধরের ভিডিও গুলো জরিপ অফিসের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে।
পরবর্তীতে সহকর্মীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তিনি ২৩ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের চিকিৎসা নথিও অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সাংবাদিক জামাল আহমেদ অভিযোগে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে এ ধরনের সশস্ত্র হামলা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সত্য প্রকাশের অধিকারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি গুরুতর প্রচেষ্টা।
তিনি হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের ভাষ্য, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে তা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; বরং জনগণের তথ্য জানার অধিকার এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর আঘাত। তারা অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলার দুঃসাহস কেউ না দেখায়।
এ বিষয়ে কাশিমপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কাশিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃমোল্লা খালিদ জানান, অভিযোগের বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিক থেকে  তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun