নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এই দুর্যোগে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪০৩ জন পর্যটকসহ আরও অনেকে। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিপর্যয়ের সময় রাসুয়া জেলার বিদুর এলাকায় একটি নতুন বাড়ির বাইরে পাঁচ ফুট গভীর গর্তে কাজ করছিলেন ২৪ বছর বয়সী শ্রমিক বিবেক কুমাল। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ওপরে থাকা সহকর্মীদের সতর্কবার্তায় তিনি দ্রুত গর্ত থেকে উঠে দৌড়াতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যেই কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোত সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন কুমাল রয়টার্সকে জানান, পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ার সময় ভাগ্যক্রমে তিনি একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, ওই আমগাছটি না থাকলে নিশ্চিতভাবেই তিনি পানির স্রোতে ভেসে মারা যেতেন। গাছটি ধরে থাকা অবস্থায় তিনি চোখের সামনেই সেই বাড়িটি ধ্বংস হয়ে ভেসে যেতে দেখেন যেখানে তিনি কিছুক্ষণ আগেও কাজ করছিলেন।
উদ্ধারকারীরা পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পানির স্রোতে ভেসে আসা পাথরের আঘাতে তার ডান পায়ে গুরুতর চোট লেগেছে। তবে তার নিজের বাড়িটি অক্ষত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতিচারণ করে কুমাল বলেন, সেই সময় কিশোর বয়সে তিনি প্রায় ৯ হাজার মানুষের মৃত্যু দেখেছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক।
একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১১ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রিহানা লামিছানেও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছে। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নদী পার হওয়ার সময় হঠাৎ পানির স্রোত নেমে এলে সে আটকা পড়ে। বুকে ও পায়ে আঘাত পাওয়া রিহানা জানায়, সে বেঁচে ফিরলেও তার বন্ধুদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে সে উদ্বিগ্ন।
নেপালের এই পার্বত্য অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও ভূমিধস নিয়মিত ঘটনা হলেও এবারের মাত্রা ছিল ভয়াবহ। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে, নিখোঁজদের তালিকায় বিপুল সংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যা উদ্ধার অভিযানকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়া ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আকস্মিক এই বন্যা ও ভূমিধসের সূত্রপাত হয়। দুর্যোগের তীব্রতায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা দুর্গম এলাকায় নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে কুমাল ও রিহানার মতো অনেক আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। নেপালে সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে পর্যটন খাতসহ স্থানীয় জনজীবনে গভীর প্রভাব পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ: ড্র-এর সময়সূচি, ফরম্যাট ও নতুন বলের রহস্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সরকার কৃষকের সরকার, কেউ সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারবে না: কৃষিমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জায়গাটি চীনের তিব্বত ও নেপালের হিমালয় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কুমাল কোনোমতে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ততক্ষণে তার চার সহকর্মী নিরাপদ জায়গায় উঠে যেতে সক্ষম হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘ভাগ্যক্রমে আমি একটি আমগাছে আটকে যাই।