গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে এক নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। যেখানে অশুভ শক্তি ও উগ্রপন্থীরা চাঁদাবাজি, দখলবাজি, আধিপত্য বিস্তার, সন্ত্রাস ও মব সংস্কৃতির মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণফোরামের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ধর্মীয় উন্মাদনার আড়ালে এই শক্তি বাঙালি সংস্কৃতি ও জীবনমানের ওপর আঘাত হানছে এবং মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়গুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আদর্শ ও নীতি নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্টজনেরা। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, তার রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল নীতি ও আদর্শ। তিনি সবসময় সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ড. কামাল হোসেন গণফোরাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের পথ কখনো কুসুমাস্তীর্ণ নয়, তবে বাংলাদেশ বারবার হোঁচট খেলেও এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ড. কামাল হোসেন শুধু সংবিধানপ্রণেতাই নন, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় তার আইনি অবদান জাতি সবসময় মনে রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। এছাড়া নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব বক্তব্য রাখেন।
ড. কামাল হোসেন তার বক্তব্যে আরও বলেন, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে দেশে নৈরাজ্য দেখা দিতে পারে। তাই রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য জাতীয় ঐক্য জরুরি। এছাড়া তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক্ষেত্রে এখনই সকলকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার বিশ্বাস ছিল, সামাজিক ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো দেশের গণতন্ত্র সঠিকভাবে চলতে পারে না।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ বারবার হোঁচট খেয়েছে, আবার সেই হোঁচট থেকে বেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়েছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতীয় সম্পদ রক্ষায় তার আইনি অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আজকে যে জাতীয় সম্পদ—গ্যাস বলেন বা অন্য কিছু বলেন—তার রক্ষাকর্তা হিসেবে ডক্টর কামাল হোসেনের আইনি অবদান অবশ্যই জাতিকে স্বীকার করতে হবে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘-প্রথম আলোতে হামলা করেছে গণবিরোধী শক্তি, ব্যর্থ হয়েছে সরকার’।