1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নরসিংদীর মাধবদীতে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও মহাসড়ক অবরোধ একটি কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে প্যারিস নীতিমালার গুরুত্ব ও বাস্তবতা লালদিয়া টার্মিনালকে বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে প্যারিসে কাতার-ফ্রান্স স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায় ও দাফন দিল্লিতে হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সংসদে পাসের অপেক্ষায় সম্পত্তি হস্তান্তর ও মানবাধিকার কমিশন বিল জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বালুর দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৯ নতুন সিনেমায় অভিনয় করবেন তৌকীর আহমেদ, পুরো শুটিং হবে ফ্রান্সে চেলসিতে যোগ দিলেন বিশ্বজয়ী গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

একটি কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে প্যারিস নীতিমালার গুরুত্ব ও বাস্তবতা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের খসড়া ২০২৬ নিয়ে চলমান আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মানসম্মত, কার্যকর ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠনের বিষয়টি। এই লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘প্যারিস নীতিমালা’ বা ‘প্যারিস প্রিন্সিপলস’ অনুসরণের দাবি বারবার সামনে আসছে। প্যারিস নীতিমালা হলো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত এমন একটি ঘোষণাপত্র, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনগুলোর কার্যকারিতা ও স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিত করার মানদণ্ড নির্ধারণ করে।

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনি কাঠামো সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছেন মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা। গত ১৭ মে ২০২৬ সালে ঢাকায় আয়োজিত এক সভায় আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, কমিশনকে আর ‘নখদন্তহীন’ বা দুর্বল প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখা হবে না। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে কমিশনকে অধিকতর কার্যকর করতে একটি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে। তবে এই আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, খসড়াটি কমিশনকে সরকারের আজ্ঞাবহ করে তুলতে পারে, আবার অনেকের মতে এটি ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইনের চেয়ে শক্তিশালী ও ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

আমাদের দেশে মানবাধিকার কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা পরিমাপের প্রধান মাপকাঠি হলো তারা রাষ্ট্র কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ ও তদন্তে কতটা স্বাধীন। জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো (এনএইচআরআই) মূলত রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত হলেও তাদের কাজ হলো মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা।

জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষার ধারণাটি ১৯৪৬ সালে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) প্রতিষ্ঠার পরপরই শুরু হয়। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে ইকোসক প্রস্তাব করেছিল যে, কমিশনের প্রধান কাজ হবে সরকারকে মানবাধিকার সুরক্ষায় সুপারিশ করা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিবকে অবহিত করা। ১৯৮০-এর দশকে জাতিসংঘ সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে এনএইচআরআই প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সালে ফিলিপাইনে এশিয়ার প্রথম এনএইচআরআই গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের অক্টোবরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত কর্মশালার মাধ্যমে জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও কার্যক্রম-সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়।

গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনসের (GANHRI) বিশেষ সাব-কমিটি (এসসিএ) নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে কমিশনগুলোকে ‘এ’ বা ‘বি’ স্ট্যাটাস প্রদান করে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত ১১৯টি দেশ এনএইচআরআই প্রতিষ্ঠা করেছে, যার মধ্যে ৯১টি ‘এ’ এবং ২৮টি ‘বি’ স্ট্যাটাসপ্রাপ্ত। বাংলাদেশের কমিশন ২০১১ ও ২০১৫ সালে ‘এ’ স্ট্যাটাসের জন্য আবেদন করলেও আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে দুবারই ‘বি’ স্ট্যাটাস পায়। এসসিএ-এর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা না থাকা এবং কমিশনার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা বাংলাদেশের কমিশনকে ‘এ’ স্ট্যাটাস থেকে বঞ্চিত করেছে।

তুলনামূলকভাবে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনগুলো ‘এ’ স্ট্যাটাস অর্জন করেছে। অথচ এসব দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের চেয়ে ভিন্ন নয়। ভারতের কমিশন দীর্ঘদিন ‘এ’ স্ট্যাটাসে থাকলেও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ ও সরকারের দৃশ্যমান প্রভাবের কারণে ২০২৫ সালে তাদের ‘বি’ স্ট্যাটাসে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের কমিশনগুলো পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারলেও সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে; তবে তাদের বাজেট জাতীয় সংসদ কর্তৃক বরাদ্দ হয়, যা তাদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

একটি কার্যকর এনএইচআরআই গঠনের ছয়টি প্রধান মানদণ্ড রয়েছে: বিস্তৃত আইনগত এখতিয়ার, আর্থিক স্বাধীনতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া, পর্যাপ্ত সম্পদ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা। ২০০২ সালে সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান বলেছিলেন, শক্তিশালী মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘ মেয়াদে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। বর্তমান সরকারের এই আইনি সংস্কার উদ্যোগটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে কমিশনের কার্যকারিতা চূড়ান্তভাবে নির্ভর করবে তা প্যারিস নীতিমালার সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে টিআইবি এবং অন্য মানবাধিকারকর্মী বা সংস্থাগুলোর মধ্যে আইনের খসড়া নিয়ে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষণীয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে, অনেকে ২০২৬ সালের মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ায় বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন এবং ২০০৯ সালের আইনের চেয়ে ২০২৬ সালের আইন শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়াসহ সমগ্র এশিয়ায় নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বরাবরই সংকটে থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া মানবাধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ এবং জাতীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, দুই ধরনের অধিকারই সমান গুরুত্বপূর্ণ, একে অপরের পরিপূরক এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব হলো দুই ধরনের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ এবং রাষ্ট্র থেকেই অর্থায়ন পায় (ওএইচসিএইচআর ২০১০)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার কমিশনের মানদণ্ড নির্ধারণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছিল, তখন ইকোসকের প্রস্তাব ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রধান কাজ হবে জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকারকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা এবং।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun