কাতারের ঐতিহ্যবাহী সুক ওয়াকিফ বাজারের ফ্যালকন বা বাজপাখির দোকানে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিযায়ী পাখি শিকারের মৌসুম ঘোষণা করায় ব্যবসায়ীরা বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। গত সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাজপাখির বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কাতার ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রেতারা শিকার মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকেই পাখি সংগ্রহ করছেন। অনেকে সশরীরে দোকানে এসে কেনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অর্ডার করছেন, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে অন্য দেশেও পাখি পৌঁছে দিচ্ছেন।
বাজারে বিভিন্ন জাতের বাজপাখির দাম তাদের গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। শাহিন ফ্যালকনের দাম ৩০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু হয়, যেখানে গারফ্যালকনের দাম প্রায় ২০ হাজার রিয়াল। এছাড়া গার-শাহিন হাইব্রিড ফ্যালকনের দাম অন্তত ৫০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু হয়। তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের মধ্যে ওয়াকরি বা ল্যানার ফ্যালকন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার রিয়ালের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সুদানি ওয়াকরি ফ্যালকনের দাম প্রায় ২ হাজার রিয়াল, ব্রিটিশ গারমুশা ফ্যালকন ৪ হাজার রিয়াল এবং স্প্যানিশ গারফ্যালকন ১০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু হচ্ছে। তবে বিশেষ জাতের ও উন্নত মানের বাজপাখির দাম এর চেয়েও অনেক বেশি হয়ে থাকে।
বাজপাখির পাশাপাশি শিকারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের চাহিদাও তুঙ্গে। সাধারণ মানের হাতমোজা ৫০ রিয়াল থেকে শুরু হলেও আমদানিকৃত ডাচ মডেলের হাতমোজার দাম ৫০০ রিয়াল পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া হুড ৩০ থেকে ১৫০ রিয়াল, বহন করার বাক্স ৬০ থেকে ৭০ রিয়াল এবং জার্মান প্রযুক্তির উন্নত বাইনোকুলারের দাম ২ হাজার ৮০০ রিয়াল থেকে শুরু হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন কেনা বাজপাখিকে শিকারের উপযোগী করে তোলার জন্য সাধারণত ১৫ দিন পর্যন্ত বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়, যা নতুন মালিকের সাথে পাখির বোঝাপড়া সহজ করে। তবে বাজারে আগে থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাখিও পাওয়া যাচ্ছে, যা ক্রেতাদের জন্য বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া থেকে বাজপাখির নতুন চালান আসার কথা রয়েছে। এই নতুন চালান এলে বাজারের বর্তমান চাঙ্গা ভাব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। শিকারের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক, জাল, ছুরি ও স্ট্যান্ডসহ অন্যান্য উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতেও দোকানগুলোতে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে।