স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৩০ আগস্ট (রবিবার) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, এই স্বাধীন দেশে কোনো মাকে সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য আর চোখের পানি ফেলতে হবে না। গুমকে জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছে, যা গুম-খুনের মাধ্যমে চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালার দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ভিন্নমত পোষণ, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণে অনেককে তুলে নিয়ে গুম ও গোপনে হত্যা করা হয়েছে। তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম এবং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনের নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ, লেখক, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের বছরের পর বছর আয়নাঘরে আটকে রাখার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন এখনো নিখোঁজ বা মৃত। রাষ্ট্রপতি জানান, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, কমিশনের প্রতিবেদন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করলেও ন্যায়বিচারের পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। গুম চিরতরে নিষিদ্ধ করতে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা ক্ষমতার দাপট যাই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।