বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসী যেন ভারতের ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে বাংলাদেশ যেমন আশ্রয় দেবে না, তেমনি বাংলাদেশ থেকে পালানো কোনো সন্ত্রাসী যেন দিল্লি বা ভারতের অন্য কোনো সার্বভৌম ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়—এটিই সরকারের প্রত্যাশা।
সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একটি কনফারেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ঢাকা। হুমায়ুন কবির বলেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকলে দুই দেশের মধ্যে সদিচ্ছা তৈরির পথ আরও সুগম হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সফরের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এবং দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় ও উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে সফরের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) বৈঠকের আগে এই সফর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। ৫ আগস্টের ঘটনার পর দুই দেশের আলোচনায় সাময়িক স্থবিরতা এলেও বর্তমানে তা আবার সচল হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিং—উভয়ের সঙ্গেই ঢাকার সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ তার বৈদেশিক নীতিতে ভারসাম্য বজায় রেখে চলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। বোয়িং বা এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত কোনো চাপের মুখে নয়, বরং দেশের এভিয়েশন খাতের চাহিদা ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান এয়ারক্রাফট বহর পর্যাপ্ত নয়। নতুন রুট চালু করা এবং এভিয়েশন খাতে রাজস্ব আয় বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদে উড়োজাহাজ কেনা অপরিহার্য। দেশের প্রয়োজন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এই বহর বাড়ানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই আলোচনার মধ্যেই ৫ আগস্টের মতো একটি ঘটনা ঘটে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিষয়টি বাংলাদেশ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একইভাবে বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হুমায়ুন কবির বলেন, এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হতে হলে বাংলাদেশকে আরও বেশি রুটে সেবা দিতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তাদের বহরে ১৫০টিরও বেশি উড়োজাহাজ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা বোয়িং বিমান কিনব।