ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র এতদিন আড়ালে ছিল, তা পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের দপ্তরের নতুন এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে। আল জাজিরা, সিএনএন ও সিএনবিসির তথ্যানুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসের ওপর ভিত্তি করে এই আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন তৈরি করা হয়েছে। যুদ্ধের মাত্র কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের কৌশলগত মজুতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। অথচ এর আগে গোলাবারুদের মজুতকে ‘সীমাহীন’ বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে চারটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংসের তথ্য পাওয়া গেছে, যার তিনটি ১ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারে’ পতিত হয়। এছাড়া আধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান ও একটি এ-১০ স্থল আক্রমণকারী বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত অন্তত সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার এবং সৌদি আরবে থাকা একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিতে ব্যবহৃত এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন এবং ৩০টির মতো এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোতেও ইরানের হামলার বড় প্রভাব পড়েছে। কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর শত শত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইনের নৌঘাঁটির সক্ষমতা কমে যাওয়ায় দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের ওপর বাড়তি নির্ভরতা তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘ সরবরাহচক্র ও লজিস্টিক জটিলতা সৃষ্টি করেছে। ইরাক ও কুয়েত থেকে চিকিৎসা-উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার সরিয়ে নেওয়ায় আকাশপথের পরিবর্তে সড়কপথে উদ্ধারকাজ চালাতে হচ্ছে।
কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতেও বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরাকে প্রায় ৬০০টির বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে এরবিলের নতুন কনস্যুলেট কমপ্লেক্স ও বাগদাদ দূতাবাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ইরানি ড্রোন হামলায় ১১.৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে এবং দুবাইয়ের কনস্যুলেটেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৫ মার্চ। নিরাপত্তাজনিত কারণে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কূটনৈতিক কর্মীকে অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যার অধিকাংশ মিশনই এখনো স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরেনি।
সবশেষে, পেন্টাগনের হিসাবে যুদ্ধের এই পর্যায়ে ১১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪১৭ জন আহত হয়েছেন। কিছু উড়োজাহাজ ও প্রাণহানির ঘটনা আগে প্রকাশ্যে আসলেও এই প্রতিবেদনটি সামগ্রিক ক্ষতির একটি বিস্তৃত চিত্র প্রদান করে। সামরিক উপস্থিতির এই পরিবর্তন ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি যুদ্ধের অবসানের পরেও স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। পাশাপাশি ইরান নতুন করে মার্কিন ড্রোন ও সাবমার্সিবল ধ্বংস করার দাবি করেছে এবং তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। চাকরির আরও তথ্য: বেক্সিমকোর ৪ প্রতিষ্ঠানের বোর্ড থেকে সরে যাওয়ার আবেদন সালমান এফ রহমানের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য দায়ী আসিফ নজরুল ও অন্তর্বর্তী সরকার: তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্ত্রীর ঘোষণার পরও অগ্রিম কর পরিশোধের প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন যে কারণে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা লাখ ছাড়াল, এত দীর্ঘ জীবনের রহস্য কী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সময়ে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে মার্কিন কৌশলগত মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং নতুন করে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে শিল্পভিত্তিক ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন ‘বটলনেক’ বা সংকটও সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই তথ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিবেদনের প্রকাশের দিনও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনকে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বলে দাবি করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব ঘটনায় বিমানের সব ক্রুকে উদ্ধার করা হয়।