নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের অপতৎপরতা বন্ধে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনা ঠেকাতে পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও আগাম তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গুলশানের মিছিলের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদ ও গুলশান মডেল থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। গত ১৬ই সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা অফিস আদেশে তাদের ডিএমপি সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির উচ্চ পর্যায়ের গত রবিবারের বিশেষ বৈঠকে কঠোর বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো এলাকায় মিছিল হলে তার দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের। মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে ওসি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপারদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের ধরার পাশাপাশি আগাম তথ্য সংগ্রহের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। শুধু ঢাকায় নয়, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সব ইউনিটের প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত শুক্রবার গুলশান থানাধীন ৩ নম্বর সড়কে জুমার নামাজের সময়ের সুযোগ নিয়ে একটি মিছিল বের করে নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করার সময় হামলাকারীরা পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে। ওই ঘটনায় পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অন্তত ৭৫ জনকে এখন পর্যন্ত আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও জুমার নামাজের আড়ালে এই ধরনের ঝটিকা মিছিলের বিষয়টি আগে থেকে আঁচ করতে পারেনি পুলিশ। তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। রাজধানীসহ গাজীপুরের পূবাইল, টেকপাড়া, সোবানী রিসোর্টের পেছনের রাস্তা এবং চট্টগ্রামের হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকায় ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সনাতন ধারার পরিবর্তে এখন থেকে প্রিভেন্টিভ মেজার বা আগাম প্রতিরোধমূলক কৌশলে নজর দিচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশমুখে ব্লক চেক, স্পটভিত্তিক জিরো-গ্যাপ সিকিউরিটি এবং আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত অতিথি তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো বহিরাগত বা অপরাধী যাতে ঢাকায় এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র ও পুলিশের উচ্চ মহল থেকে মাঠ পর্যায়ে কঠোর সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সাদা পোশাকে বিশেষ শাখার (এসবি) গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের (আইএডি) মাধ্যমে নেতাকর্মীদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাসাবাড়ি, মেস, হোস্টেল ও আবাসিক হোটেলগুলোতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে এসব অভিযানে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় থানা ও গোয়েন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশি দুর্বলতায় তৎপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল, ওসি ক্লোজড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগাম তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশি দুর্বলতার কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বিভিন্ন তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরাসরি ও অনলাইনে গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে ঢাকার মতো জায়গায় একাধিক খণ্ড খণ্ড মিছিল তারা ইতিমধ্যে করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই প্রতিটি থানায় রাত এবং দিনে টহল বাড়াতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তাৎক্ষণিক অন্যত্র বদলিরও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।