ওয়ানডে ক্রিকেটের ৫৫ বছরের দীর্ঘ পথচলায় এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি। গত বুধবার গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে নতুন এক ইতিহাস রচিত হলো। এই ম্যাচে দুই দলের ব্যাটাররা মিলে মোট পাঁচটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন, যা ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম কোনো ঘটনা। এর আগে ১৯৯৮ সালে লাহোরে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া, ২০১৩ সালে নাগপুরে ভারত-অস্ট্রেলিয়া এবং ২০২৩ বিশ্বকাপে হায়দরাবাদে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে সর্বোচ্চ চারটি সেঞ্চুরি দেখার সুযোগ পেয়েছিল দর্শকরা। গুয়াহাটিতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুই দলের পাঁচ ব্যাটার মিলে গড়েছেন এই কীর্তি। অধিনায়ক শুবমান গিল তো ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলেন।
ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তাদের দলীয় সর্বোচ্চ ৪০৫ রান সংগ্রহ করে। ক্যারিবীয়দের এই বিশাল সংগ্রহের পেছনে ছিল তিন ব্যাটারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। জন ক্যাম্পবেল ৬৮ বলে ১০১ রান, শাই হোপ ৯৪ বলে ১০৪ রান এবং জাঙ্গু ৭৭ বলে ১১৪ রান করে দলের ভিত মজবুত করেন। ৪২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তিনি ১৩৩ বল মোকাবিলায় ২৬টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ২২৩ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। তার সঙ্গী গিলও সেঞ্চুরি পূর্ণ করলে ভারতের জয়ের পথ সহজ হয়ে যায়। গায়কোয়াদ ৩১ রান ও বিরাট কোহলি ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় ভারত। ১৩৩ বলে ২৬ চার ও ৮ ছক্কায় তিনি করেন ২২৩ রান। কিন্তু রোহিত শর্মা ও শুভমান গিলের দারুণ ব্যাটিংয়ে পাহাড়সম লক্ষ্যটাকেও মামুলি বানিয়ে ফেলল স্বাগতিকেরা। রান তাড়ায় গিল ও রোহিতের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৩৯ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে ভারত।
এই জয়ে সিরিজে ভারত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল, কারণ সিরিজের প্রথম ম্যাচেও দলটি ৮ উইকেটের জয় পেয়েছিল। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে জয়পুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারত ৩৬০ রান তাড়া করে জিতেছিল, তবে এবারের রান তাড়া করার রেকর্ডটি ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে আলজারি জোসেফ ৮ ওভার বল করে ৮৯ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন। আগামী ৩ অক্টোবর চণ্ডীগড়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। রেকর্ড গড়া এই ম্যাচটি ক্রিকেট পরিসংখ্যানের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের পর তাই খোদ ভারতের ভক্তরাও আশা ছেড়ে দিয়েছিল প্রায়।