নিউইয়র্ক সিটিতে ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলা এবং নগরীর ইহুদি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় প্রথমবার একটি সমন্বিত কৌশল বা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মেয়রের দপ্তরের অধীনে এই বিশেষ পরিকল্পনাটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নগর কর্তৃপক্ষ ঘৃণামূলক অপরাধ প্রতিরোধ এবং এর শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় কাজ করা বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনকে ৬৪ লাখ ডলার অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ‘ঘৃণার বিরুদ্ধে অংশীদারত্ব’ কর্মসূচির আওতায় এবারের বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সিনাগগসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ের সুরক্ষায় আরও ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কুইন্সে অবস্থিত হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে ২০ লাখ ডলার এবং সেন্ট্রাল ব্রুকলিনে একটি নতুন ইহুদি সংস্কৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য ২৫ লাখ ডলারের বিনিয়োগ। মেয়র মামদানি তার বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, নিউইয়র্ক সিটিতে ইহুদিবিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। এই সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়রের দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক ফিলিসা উইজডম বলেন, একক কোনো কর্মসূচি বা সংস্থার উদ্যোগে এই সংকট দূর করা সম্ভব নয়, বরং নগর সরকারের প্রতিটি দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোজুড়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। বৈষম্যের শিকার হলে নাগরিকরা কোথায় অভিযোগ জানাতে পারবেন, সেই বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে লিংকএনওয়াইসিসহ জনসমাগমস্থলে বিভিন্ন বার্তা প্রচার করা হবে, যেখানে মানবাধিকার আইনের আওতায় অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি তুলে ধরা হবে। নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘৃণামূলক সহিংসতা প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, ব্যাপকভিত্তিক শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং ইহুদি কমিউনিটির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের মাধ্যমে এই সমন্বিত পরিকল্পনাটি কার্যকর করা হবে।