ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার জেরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর এই হামলা চালানো হয়। বিমানবন্দরটি অচল হয়ে পড়ায় গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী মোট ৬১টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিমান সংস্থাগুলো। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় মোট ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফ্লাইট বাতিলের কারণে কর্মস্থলে ফেরা প্রবাসী, ব্যবসায়ী, ওমরাযাত্রী এবং অন্যান্য ভ্রমণকারীরা সমস্যায় পড়েছেন।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নয়টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের চারটি, রিয়াদ এয়ারের সাতটি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি, ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি, সালামএয়ারের তিনটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে। এই ফ্লাইটগুলো বিভিন্ন দেশের আকাশপথ ব্যবহার করে রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল, যা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর ফলে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী প্রবাসীকর্মী, ব্যবসায়ী এবং ওমরাযাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে, তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফ্লাইট চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটের সময়সূচিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদগামী যাত্রীদের পরবর্তী ফ্লাইট সূচির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ঢাকায় অবস্থানরত যাত্রীদের বহন করা সম্ভব হয়নি।