গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বাবার দেওয়া জমিতে নির্মিত এক নারীর বসতঘর এক্সকাভেটর (বেকু) দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাইদের বিরুদ্ধে। এ সময় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী নাছরিন সুলতানা (৩৫)। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। নাছরিন সুলতানা কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ওই ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একজন স্বাস্থ্যকর্মী। তাঁর দাবি, বাবা মৃত্যুর আগে বসতঘরসহ ১৭ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তাঁকে লিখে দেন। ২০২৩ সালের ২৮ মে করা ওই দলিলের নম্বর ৯৫৮/২২। জমিতে ঘর নির্মাণ করে গত চার বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি। নাছরিনের অভিযোগ, গত ২ নভেম্বর রাতে তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তাঁর ভাইয়েরা এক্সকাভেটর দিয়ে বসতঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। এ সময় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। নাছরিন সুলতানা বলেন, ‘খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে এসে দেখি, আমার ঘর ও মালামাল সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।’ লিখিত অভিযোগে মমিন সরকার (৩৩), বিলাল হোসেন (৪০), রশিদা (৩৬), নাদিয়া (২০) ও রশিদ (৫০) নামে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। নাছরিনের দাবি, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলেও তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগও করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাঁকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। প্রতিবাদ করলে তাঁর স্বামী ও সন্তানদের ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখানো হয়। নাছরিনের চাচা সিরাজ উদ্দিন মাস্টার বলেন, তাঁর বাবা ঘরসহ জমি নাছরিনকে লিখে দিয়েছেন। তিনি সেখানেই বসবাস করছিলেন। রাতে তাঁর ভাইয়েরা এক্সকাভেটর এনে ঘরটি ভেঙে দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে মমিন সরকার মুঠোফোনে বলেন, বোনের সঙ্গে জমি নিয়ে কিছু বিরোধ রয়েছে। তবে যে ঘরটি ভাঙা হয়েছে, সেটি তাঁর বোনের নয়। কাপাসিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নাছরিনের বসতঘর ভাঙার বিষয়টি দেখেছেন। তাঁর ভাইয়েরা এক্সকাভেটর দিয়ে ঘরটি ভেঙেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ বলেন, ওই নারীর বসতঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাছরিন সুলতানা।