গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা সহ চার বাড়ির ফটকে ঝুলছে কাফনের কাপড়, পড়ে আছে আতর-সাবান আর রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি। এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঢাকার ধামরাইয়ের বড় চন্দ্রাইল গ্রামে। বুধবার গভীর রাতে কুল্লা ইউনিয়নের তিনটি বাড়িতে এসব সামগ্রী রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন পরিবারগুলোর সদস্যরা।যেসব বাড়ির সামনে এসব সামগ্রী পাওয়া গেছে, সেগুলোর মালিক মো. মোসলেহ উদ্দিন, মো. ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়া। তাদের মধ্যে মোসলেহ উদ্দিনের বাড়িতে গত ২৪ অক্টোবর আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছিল।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির গ্রিলে একটি ব্যাগ ঝুলতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা সেখানে জড়ো হন। বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়া তাদের বাড়ির ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি দেখতে পান।মোসলেহ উদ্দিন আরও বলেন, জমি কেনাকে কেন্দ্র করে মুঠোফোনে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কেন ওই জমি কিনেছেন, তা জানতে চেয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তিনি সন্দেহ করছেন। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়া বলেন, এ ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তারা এলাকায় নিরাপদে বসবাস করতে চান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর থেকে তিনটি পরিবারের পাশাপাশি পুরো গ্রামের মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।ভুক্তভোগীরা প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ধামরাই থানায় গিয়ে লিখিতভাবে পুলিশকে অবহিত করেন।ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।