দেশের প্রতিটি নাগরিকের ওপর বর্তমানে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা। রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে বর্তমান মাথাপিছু ঋণের পাশাপাশি ঋণের বোঝা কমাতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।
জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজস্ব আহরণের পরিধি বাড়ানো এবং কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরকারি ঋণের ঝুঁকি ও সুদ ব্যয় কমাতে বাজারভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ঋণবাজারের উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে সরকার নির্দিষ্ট সীমা বা সিলিং অনুসরণ করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উচ্চ ব্যয়ের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরকারের সামগ্রিক সুদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। এছাড়া অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে সরকার ‘অ্যানুয়াল বরোয়িং প্ল্যান’ বা বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’ (PMBM Act)-এর বিধানগুলো যথাযথভাবে পালনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজস্ব ও ব্যয়ের প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ বা নগদ অর্থের পূর্বাভাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, এসব সমন্বিত ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের (৭৫ কুষ্টিয়া-১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ হিসাব তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ তার প্রশ্নে জানতে চান, বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কত; ২০২৬ সালে কত ছিল এবং ঋণের বোঝা কমাতে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।