মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহী জান্নাকান্দি গ্রাম থেকে এক সৌদিপ্রবাসী, তাঁর স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে পুলিশ এই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা আকরাম হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) ও তাঁদের মেয়ে আলিজা আক্তার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকরাম হোসেন তিন বছর আগে সিঙ্গাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ গ্রামের মহসিন খানের মেয়ে প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর আকরাম সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং দুই মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। এর আগে প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন তিনি, সেই সংসারে কোনো সন্তান ছিল না।
পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, শুক্রবার রাতের খাবার শেষে ওই দম্পতি ও শিশু সন্তান ঘুমাতে যান। শনিবার বেলা ১১টার পরও ঘরের দরজা না খোলায় বাড়ির লোকজন সন্দেহ করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তারা ঘরের বেড়া কেটে প্রিয়াঙ্কা ও শিশু আলিজার নিথর দেহ খাটের ওপর এবং আকরামের মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ বেলা দুইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিহত প্রিয়াঙ্কার বড় বোন মিশু আক্তার দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই প্রিয়াঙ্কাকে দাম্পত্য ও পারিবারিক নানা বিষয়ে মারধর করা হতো। দু-তিন দিন আগেও তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং সেই আঘাতের ছবি প্রিয়াঙ্কা মুঠোফোনে পাঠিয়েছিল। শিশুসন্তান কাঁন্না করলেও তাঁকে মারধর করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর আকরামের মা তাহমিনা বেগমসহ স্বজনরা আহাজারিতে ভেঙে পড়েন, প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রসঙ্গে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আকরাম হয়তো তাঁর স্ত্রীকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে এবং শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হতে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। পুলিশ বর্তমানে পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকেও ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছিলেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেলা তিনটার দিকে ওই বাড়িতে গিয়ে নিহতদের স্বজনদের আহাজারি দেখা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিহত প্রিয়াঙ্কার স্বজনেরাও ওই বাড়ি এসেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পারিবারিক কলহে মাঝেমধ্যে স্ত্রীর সঙ্গে আকরামের ঝড়া হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আকরামের মা তাহমিনা বেগম আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘আমার কী হইয়্যা গেল রে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাবা (আকরাম), ক্যানো তোরা এমন করলি।’।