সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া গেলেই রিয়াদগামী ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বর্তমানে রিয়াদ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে দাম্মাম অথবা মদিনা রুটে সীমিত পরিসরে যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তার সাথে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী যাত্রীদের সাথে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা শোনেন। বর্তমানে যাত্রীরা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ হাতে পাচ্ছেন এবং ব্যাগেজ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিমানমন্ত্রী জানান, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং বিমানবন্দরে ভোগান্তি নিরসনে সরকারের চলমান কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বেগবান করা হবে।
এদিকে প্রবাসী কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্যে লাগেজ বহনের সুবিধার্থে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ২০০টি ট্রলি সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৫০টি এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে ২৫টি করে ট্রলি দেওয়া হয়েছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানান, আকাশপথের যোগাযোগ ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সৌদি আরবে আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রীদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে।
জাপানের সাথে সম্পাদিত নতুন সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি কর্মীদের আইনি সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উচ্চ বেতনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে বসবাসের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। চুক্তির আওতায় নারী কর্মীদের প্রতি বৈষম্য রোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গর্ভাবস্থা বা সন্তান প্রসবজনিত কারণে কোনো নারী কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো সুযোগ এই চুক্তিতে রাখা হয়নি। মন্ত্রীর প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের ফলে দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।