প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের পর এক সপ্তাহ ধরে প্লাবিত গুহার ভেতরে আটকে থাকার পর লাওসে পাঁচ গ্রামবাসীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা।
জীবত উদ্ধারকৃতদের সঙ্গে থাকা আরও দুই গ্রামবাসী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া লাওস ও থাইল্যান্ডের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
গত বুধবার মধ্যাঞ্চলীয় সাইসোমবুন প্রদেশের কয়েকজন গ্রামবাসী স্বর্ণের খনি ও বন্যপ্রাণীর সন্ধানে গুহাটিতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে গুহার প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেলে তারা আর বের হতে পারেননি।
উদ্ধারকারীদের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, গুহা ডুবুরিরা প্রায় পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে যাওয়া সরু ও কাদাময় পথ ধরে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
লাওসের উদ্ধার সংস্থা ‘রেসকিউ ভলান্টিয়ার ফর পিপল’–এর বুনখাম লুয়াংলাথ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এক ভয়েস মেসেজে তিনি বলেন, ‘আমি এখনও কাঁপছি। আমাদের দল এটা সম্ভব করেছে।’
উদ্ধারকারীরা জানান, ভূগর্ভের গভীরে বিস্তৃত এই গুহা ব্যবস্থা অত্যন্ত সরু। কিছু কিছু অংশের প্রশস্ততা মাত্র ৫০ সেন্টিমিটার (২০ ইঞ্চি)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ‘রেসকিউ ভলান্টিয়ার ফর পিপল’ জানায়, ‘আমরা পাঁচজনকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় পেয়েছি। এখনও আরও দুইজনকে খোঁজা হচ্ছে।’
থাই উদ্ধারকর্মী কেনকাচ বেনগাওয়াং ফেসবুকে জানান, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ০৯:৩০) ওই গ্রামবাসীদের খুঁজে পাওয়া যায়।
ফিনল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ গুহা ডুবুরি মিক্কো পাসি বলেন, উদ্ধারকারীদের ‘শত শত মিটার দীর্ঘ সংকীর্ণ পথ, বন্যার পানি, ধসে পড়ার ঝুঁকি এবং দূষিত বাতাসের উচ্চ ঝুঁকি’ মোকাবিলা করতে হয়েছে।
তিনি গুহাটিকে ‘পরিত্যক্ত স্বর্ণখনি’ হিসেবেও বর্ণনা করেন।
এই বিশেষজ্ঞের ধারণা, সাতজন ব্যক্তি গুহার বের হওয়ার পথ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার (৯৮৪ ফুট) ভেতরে আটকা পড়েছিলেন।
এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী ভিয়েনতিয়েন থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত গুহাটিতে গত বুধবার প্রবেশ করেছিলেন ওই গ্রামবাসীরা।
নিরাপত্তার কারণে শুধুমাত্র একটি নাম ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে লাওসের উদ্ধারকর্মী বায়েং এএফপিকে বলেন, ‘এলাকাটি কারও মালিকানাধীন নয়। স্থানীয়রা সাধারণত সেখানে গর্ত খুঁড়ে খাবার বা অন্য কিছু খুঁজতে যায়।’
কেনকাচ বেনগাওয়াং সেই উদ্ধার দলেরও সদস্য ছিলেন যারা ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই প্রদেশের পাহাড়ের নিচে প্লাবিত গুহায় দুই সপ্তাহ আটকে থাকা ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে নিরাপদে উদ্ধার করেছিলেন।
বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচিত সেই অভিযানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০ হাজারেরও বেশি বিশেষজ্ঞ অংশ নিয়েছিলেন।