যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন একটি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে, যার ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়তে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক করার বিষয়েও দুই পক্ষ মতৈক্যে পৌঁছেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি অনুমোদন করেননি এবং ইরানও বলছে, খসড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানা চারটি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের আলোচকরা এই অতিরিক্ত সময় ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা করতে পারবেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এই ধরনের চুক্তি হলে তা হবে শান্তির পথে বড় অগ্রগতি। যদিও এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, চুক্তি এখনো নিশ্চিত নয়, তবে আলোচনা আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি প্রায় প্রস্তুত বলে দাবি করলেও ইরান তা নাকচ করেছে।
চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ শিথিল করতে পারে এবং তেল বিক্রিতেও কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সম্ভাব্য চুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার কারণে পরিস্থিতি এখনো নাজুক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তর করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।