গাজীপুরের কাশিমপুরে গভীর রাতে একটি বাড়িতে আসামি গ্রেপ্তারের অভিযানের সময় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিক মো. শহিদুল ইসলাম (৪৯)।
অভিযোগে শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ২৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ২ টার সময় তৈহিদ উদ্দিন সোহাগ নামে এক ব্যক্তি তাঁর নির্মাণাধীন বাড়ির জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শিল-পাটা দিয়ে বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন কাশিমপুর থানার এএসআই সেকেন্দার আলীসহ দুই পুলিশ সদস্য ও আরও দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি।
বাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা জানান, ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া কামালের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া মডেল থানার মামলা নং ০৮ তাং ১৫/০৮/২৬ জি আর ১১৪/২৬, ১৮৬০ পেনাল কোডের ৪৫৭/৪৬১ ধারা একটি মামলায় কামালকে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁরা সেখানে এসেছেন।
শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, এ সময় এক অজ্ঞাত পুলিশ সদস্য তাঁর ছেলের কক্ষের ওয়ারড্রব থেকে ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া স্বর্ণের বালা, ৮ আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের টিকলি এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এসব স্বর্ণালংকারের মূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাশিমপুর থানার এএসআই সেকেন্দার আলী। তিনি বলেন, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া মডেল থানার এসআই লুৎফরসহ পুলিশের একটি দল আসামি গ্রেপ্তারের জন্য কামালের রুমে অভিযান চালায়। তিনি তাঁদের শুধু আইনি সহযোগিতা করেছেন। চোরাই মাল উদ্ধারের জন্য পুলিশ কামালের রুমে তল্লাশি চালিয়েছে। তবে কামালের রুম ছাড়া আর কোন রুমে তল্লাশি করা হয়নি। স্বর্ণালংকার বা নগদ টাকা নেওয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগে যে ধরনের লুটপাটের কথা বলা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
গাজীপুর কাশিমপুর মেট্রো থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা খালিদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ শুনেছি। তবে এখনো কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি,অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।