1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানে আগুন ইরানের কাছ থেকে ইউরেনিয়ামের মজুত সরাতে হবে : নেতানিয়াহু মিরপুর থানার হত্যাচেষ্টা মামলা : ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল জনসংখ্যার অনুপাতে সংসদের আসন সংখ্যা বাড়ানো সময়ের দাবি : হুইপ দুলু প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়েছেন শেনজেনে প্রবেশ করতে ভ্রমণকারীদের সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে, ঝুঁকিতে উপকূলসহ বিভিন্ন এলাকা গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট নিরাপত্তাহীনতায় আত্মগোপনে বাবা উসাইমং মারমা ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন মাহবুবুল আলম হানিফ ও তার স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ

‘ফ্যামিলি কার্ড’, নায়িকার অন্তর্বাস–বিতর্ক থেকে নতুন চমক, ঈদের ৫ সিনেমায় যা দেখা গেল

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

কয়েকবার ‘ইয়েস’, ‘ইয়েস’ শুনে পাশের সিটে তাকাতেই চমকে উঠতে হলো। বছর দশকের শিশুসন্তানকে সামলানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছেন মা। কাজটা সহজ নয়। ছেলের হাতে পপকর্ন। পর্দায় নায়ক যখন শত্রুদের শায়েস্তা করছে, শিশুটি খুশিতে ‘ইয়েস ইয়েস’ বলে উঠছে আর পপকর্ন ছিটকে পড়ছে নিচে। হলে চলছিল অ্যাডাল্ট সনদ পাওয়া ‘রাক্ষস’ সিনেমা। এই সিনেমা দেখতে শিশুদের যাওয়ারই কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে ‘ইয়েস’, ‘ ইয়েস’ বলা অনেক শিশুকেই দেখা গেল। পর্দায় অতি সহিংস দৃশ্য দেখেই যে ওর এমন উত্তেজনা, বলার অপেক্ষা রাখে না।

পবিত্র ঈদুল ফিতর মাস দেড়েক পার হয়েছে। ঈদে মুক্তি পাওয়া পাঁচ সিনেমার মধ্যে ৪টি এখনো চলছে। এবারের ঈদের ছবি নানা কারণেই ব্যতিক্রম। ঢাকার তিন মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমাগুলো দেখে পাওয়া গেল অনেক নতুন রসদ। অর্ধেকটা আশাজাগানিয়া, অর্ধেকটা শঙ্কার।

পাঁচে পাঁচ
মেহেদি হাসানের ‘রাক্ষস’, আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’, রেদওয়ান রনির ‘দম’, তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আর রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’। এবারের ঈদের পাঁচ সিনেমাই ছিল দেখার মতো। গত কয়েক বছরে ঈদের অনেক হাই ভোল্টেজ সিনেমা মুক্তি পেয়েছে বটে, কিন্তু সঙ্গে এমন দু–একটি সিনেমাও ছিল, যেগুলো না দেখলে ক্ষতি বৃদ্ধি হতো না। অনেক দিন পর এমন এক উৎসবের মৌসুম পাওয়া গেল, যেখানে সব সিনেমাই কোনো না কোনো কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কোনোটিতে আছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ তারকা, কোনোটি বিষয়বস্তু, কোনোটি আবার নির্মাতার কারণে দেখতেই হতো। তানিম নূরের ‘ফ্যামিলি কার্ড’
গত বছরের ঈদুল আজহায় ‘উৎসব’ বানিয়ে চমকে দিয়েছিলেন তানিম নূর। ছবিটি দেখতে উৎসব করেই পরিবার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন দর্শকেরা। তানিম নূর যে এবারের ঈদেও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে হাজির হবেন, সেটা হুমায়ূন আহমদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ার পরই পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু এবারও কি তিনি সফল হবেন? সে উত্তর এতক্ষণে নিশ্চয় জেনে গেছেন দর্শক। ঈদের এত দিন পরও সিনেমাটি দেখতে ভিড় করছেন, টিকিট বিক্রির আয় ছাড়িয়েছে ২০ কোটি! শেষ কবে পরিবার নিয়ে হুমড়ি খেয়ে কোনো বাংলা সিনেমা দেখতে এত ভিড় হয়েছে? ‘উৎসব’ বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছিল, কিন্তু সিনেমা হিসেবে কিছু দুর্বলতাও ছিল। ‘বনলতা’য় তানিম নূর আরও পরিণত। ড্রামা আর কমেডি–নির্ভর বাংলা সিনেমার যে অভাব ছিল, সেটা ভালোভাবেই পূরণ করেছেন তিনি। সঙ্গে অন্য প্রযোজক ও পরিচালকদের দিয়েছেন নতুন দিশাও—মাঝারি বাজেটে বুদ্ধিদীপ্ত সিনেমা বানালে এখন দর্শক দেখতে আসেন, সেটা বাণিজ্যিক সিনেমার অতি ঝকমকানি না থাকলেও। নতুন গল্প, নতুন করে গল্প বলা
‘আইসক্রিম’ সিনেমার ১০ বছর পর এবার মুক্তি পেয়েছে রেদওয়ান রনির ‘দম’। নির্মাতা হিসেবে ১০ বছরের বিরতি বেশ দীর্ঘ সময়। তাঁর আগের মুক্তিপ্রাপ্ত দুটি সিনেমা (‘চোরাবালি’ ও ‘আইসক্রিম’) দেখলে বোঝা যায়, মূলধারার ভেতরে থেকেও একটু ভিন্ন ধরনের গল্প বলার চেষ্টা করেন তিনি। তবে ‘দম’ সিনেমায় নির্মাতা যেন আরও পরিণত। বাণিজ্যিক সিনেমার বহুমাত্রিকতাকে পাশ কাটিয়ে এখানে নির্মাতা নজর দিয়েছেন সংযত গল্প বলার ধরনে। সারভাইভাল থ্রিলার ঘরানার এ ছবি সত্যিকার অর্থেই দর্শককে নিয়ে যায় এক দুর্গম মরুভূমিতে, যেখানে একজনের বেঁচে থাকার যাত্রা ঘিরে এগিয়েছে পুরো গল্প। ‘দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’ সিনেমাটি সত্য ঘটনার ওপর নির্মিত। দুনিয়ার নানা প্রান্তে ‘বেজড অব ট্রু স্টোরি’ সিনেমা প্রচুর হয়, কিন্তু দেশের বড় পর্দায় সেভাবে এ ধরনের সিনেমা দেখা যায় না। কোনোটা হলেও নানা কারণে নির্মাতারা স্বীকার করেন না। কিন্তু ‘দম’ সিনেমার শেষ দৃশ্যে যে ব্যক্তির জীবনের ঘটনা নিয়ে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে, তাঁকেও দেখানো হয়। ‘দম’–এ নির্মাতা একই সঙ্গে শৈল্পিক ধারা আর বাণিজ্যিক সিনেমার মিশ্রণ ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। প্রতিকূল পরিবেশ ও দমবন্ধ অবস্থায় যেমন প্রধান চরিত্রের টিকে থাকার গল্প ভাবিয়েছে, তেমনই কয়েকটি ‘মাস মোমেন্ট’ দেখতে দেখতে রোমাঞ্চও জেগেছে। ‘দম’–এর মতোই ঈদের সিনেমার মিছিলে আরেকটি সাহসী নির্মাণ রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’। তারকানির্ভর সিনেমা কিংবা একক চরিত্রকেন্দ্রিক গল্প—কিছু ব্যতিক্রম বাদে ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা মানেই এই চিত্র। ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তুফান’ থেকে ‘তাণ্ডব’—রায়হান রাফীও গত তিন বছর সে পথেই হেঁটেছেন। এবার ব্যতিক্রম। এই ঈদে ‘প্রেশার কুকার’–এ তিনি বলেছেন ভিন্ন পটভূমির চার নারীর গল্প। আমাদের চারপাশের নারীদের এ গল্পগুলো হয়তো অনেকেরই জানা, কিন্তু কেউ সাহস করে বলে না। ঈদে এমন একটা সাহসী গল্প বলার জন্য নির্মাতার আলাদা ধন্যবাদ পাওনা। সেই আলফা মেল তবু আশা

পরিচালক মেহেদি হাসান সম্ভবত সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার পাঁড় ভক্ত। মেহেদির প্রথম সিনেমা ‘বরবাদ’–এর মতো এবারের ঈদের ‘রাক্ষস’–এও সন্দীপের ‘অ্যানিমেল’ আর ‘কবির সিং’–এর প্রেরণা স্পষ্ট। তবে এ কথা মানতেই হবে, পরপর দুই সিনেমায় বাণিজ্যিক সিনেমার নির্মাতা হিসেবে নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন মেহেদি। দেশে পুরোপুরি বাণিজ্যিক সিনেমার নির্মাতার অভাব অনেক দিনের। আলফা মেল ভক্তি আর সন্দীপের ছায়া থেকে বের হতে পারলে মেহেদির মধ্যে ভালো নির্মাতার সব লক্ষণই আছে। ‘বরবাদ’–এর মতো ‘রাক্ষস’–এর সিনেমাটোগ্রাফি, অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি আর গল্প বলা ছিল বেশ উপভোগ্য। এমনকি বাণিজ্যিক সিনেমায় গানের ব্যবহার কীভাবে করতে হয়, সেটাও তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ওই যে অতি আলফা মেল ভক্তি, এবার সেটা এতটাই যে সিনেমার একপর্যায়ে নায়ক নিজেই নিজেকে আলফা মেল বলে ঘোষণা করে! গত কয়েক বছরে মুক্তি পাওয়া শাকিব খানের সিনেমাগুলোয় তাঁকে উত্তরোত্তর উন্নতি করতে দেখা গেছে। ‘তুফান’ আর ‘বরবাদ’-এ স্টাইলিশ অ্যাকশন আর ‘তাণ্ডব’–এ হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট করে চমকে দিয়েছিলেন শাকিব। তারও আগে ‘প্রিয়তমা’ আর ‘রাজকুমার’–এও ঢাকাই সিনেমার অন্যতম শীর্ষ নায়কের উপস্থিতি ছিল আশাজাগানিয়া। কিন্তু এবার আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’য় গত কয়েক বছরে শাকিব খানের সবচেয়ে দুর্বল সিনেমা। নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর সঙ্গে তাঁর পরিচিতির দৃশ্য সবচেয়ে বিরক্তির। প্রায় মিনিট তিনেকের লম্বা দৃশ্যটির মূল উপজীব্য নায়িকার অন্তর্বাস! সিরিয়াসলি? নব্বইয়ের দশকের হিন্দি সিনেমায় এ ধরনের সস্তা দৃশ্য দেখা যেত। কিন্তু এই ২০২৬ সালে এসে কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া এ ধরনের দৃশ্য দিয়ে নায়ক–নায়িকার প্রথম পরিচিতি রীতিমতো অবিশ্বাস্য। এর মধ্যেই অনুমোদনহীন দৃশ্য দেখানোর দায়ে সিনেমাটির প্রদর্শনী স্থগিত করেছে সার্টিফিকেশন বোর্ড। আর প্রিমিয়ারে তো শাকিব খান সিনেমাটির নানা দুর্বলতার জন্য নিজেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটাও এবারের ঈদে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই সিনেমার গড়পড়তা নির্মাণের বড় দায় নির্মাতা ও প্রযোজকের। কিন্তু প্রিমিয়ারের পর সংবাদ সম্মেলনে সব দায় নিজের কাঁধে নিয়ে শাকিব খান যেভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, সেটাও সাধুবাদ পাওয়ার মতো ঘটনা। নায়ক–নায়িকা কে কেমন
ঈদের সিনেমায় অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচ মোশাররফ করিম, আফরান নিশো ও নাজিফা তুষি। তিনজনই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’ ও ‘প্রেশার কুকার’–এ ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় করেছেন। ‘বনলতা’য় অধ্যাপক রশীদ চরিত্রে মোশাররফ ছিলেন দুর্দান্ত। তাঁর কমিক টাইমিং, আবেগের দৃশ্যগুলোতে এক্সপ্রেশন ছিল দেখার মতো। কেবল মোশাররফ নন—সাবিলা নূর, শরীফুল রাজ, শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম, চঞ্চল চৌধুরী থেকে শুরু করে এ সিনেমার সবাই দারুণ করেছেন। কিন্তু মোশাররফকে সবার মধ্য থেকেই আলাদা করা যায়। অন্য সব অভিনেতা যত ভালোই করুন, সেই দৃশ্যে মোশাররফ থাকলে সংগত কারণেই সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নেন তিনি। ‘দম’ সিনেমায় নিশোকে ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না। নিশোর বাস্তব অভিনয় ছিল ‘দম’ সিনেমার প্রাণ। খুব কম সংলাপের এ সিনেমায় নিশো বারবার নিজেকে ভেঙেছেন। মানসিক চাপের সময়ে তাঁর ভঙ্গুরতা আর বেঁচে থাকার আকুতি যেমন চোখে জল এনেছে, তেমনি তাঁর সংসারের ছোট ছোট মুহূর্ত আনন্দ দিয়েছে দর্শকদের। ২০২৩ সালে প্রথম সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’ দিয়ে নিশো চলচ্চিত্রে অভিনেতা হিসেবে তাঁর জাত চিনিয়েছিলেন। এরপর গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘দাগি’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবার ‘দম’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজেকে নিয়ে গেলেন অন্য উচ্চতায়। তিন সিনেমাতেই তাঁর চরিত্র সাধারণ মানুষের। ‘সুড়ঙ্গ’তে ছিল ইলেকট্রিশিয়ান মাসুদের কোনো রকম এক যাত্রার গল্প, ‘দাগি’তে জেলফেরত এক যুবকের প্রায়শ্চিত্তের গল্প আর ‘দম’ জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমানো এক যুবকের বন্দিদশার বয়ান। তিনটি সাধারণ মানুষের চরিত্র হলেও নিজের লুক, এক্সপ্রেশন আর অভিনয় দিয়ে চরিত্র তিনটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। সিনেমার বিরতির আগে পালানোর চেষ্টা করেন নূর, সে সময়ে তাঁর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটা, বমি করা আর শঙ্কাভরা চাহনি ভোলা কঠিন। একইভাবে বিস্ফোরণের পর পালাবেন কি পালাবেন না, এই দোলাচল তিনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, সেটাও দেখার মতো।

‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় সিনেমাজুড়ে ছিল নাজিফা তুষি অভিনীত রেশমা। তাকে ঘিরেই সিনেমার গল্প ডালপালা মেলেছে। চরিত্রটিতে সম্ভবত ক্যারিয়ার–সেরা অভিনয় করেছেন তুষি। ভাইয়ের সংসারে থাকা অনাহূত বোন, পারলারের কর্মজীবী নারী, দূরে থাকা এক সন্তানের মা, পালিয়ে যাওয়া স্বামীকে খুঁজে বেড়ানো এক স্ত্রী আর পাখি হয়ে নতুন জন্ম নেওয়া এক নারী—সব মুহূর্তেই চরিত্রটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তুষি। অনেক দৃশ্যেই সংলাপ ছিল না, কিন্তু কথা বলেছে তাঁর চোখ। একটি দৃশ্যে চুলায় প্রেশার কুকার, সামনে দাঁড়িয়ে রেশমা—কোনো কিছু না বলেই চরিত্রটির ভেতরের দমবন্ধ অবস্থা বুঝিয়ে দিয়েছেন তুষি। আবার গাড়ির মধ্যে একটি দৃশ্যে শহীদুজ্জামান সেলিমের সঙ্গে চোখাচোখির দৃশ্যটিও দারুণ। ঈদের সিনেমায় এ ছাড়া চমকে দিয়েছেন সোহেল মন্ডল। ‘রাক্ষস’ সিনেমায় খল চরিত্রে মনে রাখার মতো পারফরম্যান্স দিয়েছেন তিনি। ‘প্রিন্স’–এ শরীফ সিরাজও ভালো করেছেন। ‘প্রেশার কুকার’–এ আজিজুল হাকিম আর রিজভু রিজুর অভিনয়ও মনে রাখার মতো। দেশি নায়িকাদের মধ্যে ‘দম’–এ পূজা চেরী দারুণ করেছেন। চরিত্র ছোট হলেও পূজা ভালো অভিনয় করেছেন। বিদেশে বন্দী স্বামী। বেঁচে আছে কি না, জানা নেই; এমন চরিত্রে যথাযথ ছিলেন পূজা। ‘প্রিন্স’–এ তাসনিয়া ফারিণ ছিলেন চলনসই।
নায়কদের মধ্যে আলাদা করে বলতে হবে সিয়াম আহমেদের কথা। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা সিয়ামকে এবার দেখা গেছে অ্যাকশনের মেজাজে। খ্যাপাটে চরিত্রেও তিনি দারুণ করতে পারেন, সেটা বোঝা গিয়েছিল গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘তাণ্ডব’–এর অতিথি চরিত্রে। এবার বড় স্কেলের বাণিজ্যিক সিনেমা ‘রাক্ষস’–এ হাজির হয়ে চমকে দিয়েছেন তিনি। অ্যাকশন, ক্ষোভ থেকে নায়িকার সঙ্গে রসায়ন—সিয়ামের উপস্থিতি ছিল আশাজাগানিয়া। কেবল যখন উচ্চ স্বরে সংলাপ বলেছেন তখন মনে হয়েছে, তাঁর কণ্ঠস্বর নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। পর্দার আড়ালের চমক
ঈদের পাঁচ সিনেমার মধ্যে ‘প্রিন্স’ ছাড়া সব কটির সিনেমাটোগ্রাফিই দুর্দান্ত। ‘দম’–এ দুর্দান্ত কাজ করেছেন মিখাইল সিরিয়ানোভ। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এ ট্রেনের মধ্যে ছোট্ট পরিসরে ভালো কাজ করেছেন বরকত হোসেন পলাশ। তবে এঁরা নন, ঈদের সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফিতে বড় চমক জোয়াহের মুসাব্বির ও আবদুল মামুন। ‘প্রেশার কুকার’–এর ভিজ্যুয়াল দুর্দান্ত। নজর কাড়ে অ্যানামরফিক লেন্সের ব্যবহার। কালার গ্রেডিং পরিবর্তন করার মাধ্যমে কখনো কখনো চরিত্রদের দমবন্ধ অবস্থা বোঝানো হয়েছে। এ জন্য সিনেমার জোয়াহের মুসাব্বিরের বিশেষ ধন্যবাদ প্রাপ্য। অন্যদিকে ‘রাক্ষস’–এও দারুণ কাজ করেছেন আবদুল মামুন। অ্যাকশন থেকে রোমান্টিক দৃশ্যে—সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। ঈদে পর্দার আড়ালের কারিগর হিসেবে বড় প্রাপ্তি এই দুই চিত্রগ্রাহক।

কয়েক বছর ধরে ওটিটির বিভিন্ন প্রকল্পে দারুণ কাজ করছিলেন রুসলান রেহমান। তবে এবার ‘প্রেশার কুকার’–এ নিজেকেই ছাড়িয়েছেন তিনি। হলের দমবন্ধ পরিবেশ, নারীদের লড়াই, অনিশ্চয়তা দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন রুসলান। বিভিন্ন সময়ে কেবল নারী কণ্ঠে হামিং ছিল, সেটাও শুনতে দারুণ লেগেছে। সিনেমার অনেক দৃশ্যেই সংলাপ নেই, কোথাও আছে কেবল ছুটে চলা। কিন্তু সবই সিনেমার সঙ্গে মানানসই আবহে তুলে এনেছেন তিনি। একইভাবে ‘দম’–এ নবরুণ বসুর আবহ সংগীত মাননসই ছিল।

প্রস্তুতি ছাড়াই আরও একটা ঈদ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের পাঁচ সিনেমার মধ্যে সবচেয়ে পরিকল্পিত প্রচার করেছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। টিজার, ট্রেলার থেকে গান—তাদের সবকিছুই চলেছে পরিকল্পনামাফিক। এমনকি সিনেমার বুকলেট প্রকাশ করেও চমকে দিয়েছে ‘বনলতা’ টিম। এ ছাড়া পরের দিকে ‘দম’ও টিজার, ট্রেলার প্রকাশ করে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। বাকি সিনেমাগুলোর প্রচার আরও ধারাবাহিক হতে পারত। তবে টিজার, ট্রেলার আর গান মুক্তি ছাড়া মাঠে নেমে প্রচার খুব একটা দেখা যায়নি। মুক্তির পর থেকে অবশ্য হলে হলে ছুটেছেন তারকারা। এর মধ্যে ডিসিপি নিয়ে ঝামেলায় ‘প্রিন্স’–এর প্রথম কয়েক দিনের ব্যবসা মার খেয়েছে চরমভাবে। তবে প্রচার যা হয়েছে, সেটাও অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছায়নি। অনেক দর্শকই সিনেমা দেখতে এসেছেন সিনেমা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না নিয়ে। ফল, অনেকে অ্যাডাল্ট সার্টিফিকেশন পাওয়া সিনেমা দেখতে ঢুকে গেছেন শিশুসন্তান নিয়ে। অনেকে এসেছেন ঈদের সিনেমা দেখতে হবে বলে। অনেকে আবার কাঙ্ক্ষিত সিনেমার টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে অ্যাডাল্ট সিনেমা দেখতে ঢুকে গেছেন।

তারপরও ঈদের সিনেমা নিয়ে আলোচনা ছিল, সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে মাল্টিপ্লেক্সগুলো সন্ধ্যার শো বাতিল করার পর আবার ধাক্কা খায় পাঁচ সিনেমা। সান্ধ্য শো এখনো চলছে না। এর মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহাও চলে এসেছে। শোনা যাচ্ছে, আটটি সিনেমা নাকি মুক্তি পাবে! যদিও আজমান রুশোর ‘রকস্টার’ আর মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ ছাড়া অন্য কোনো সিনেমাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেনি! ঈদে মুক্তি পাবে, এমন সিনেমার শুটিং এখনো চলছে!

এর মধ্যে ‘মাইকেল’, ‘ডেভিল ওয়ারস প্রাডা’, ‘মর্টার কম্ব্যাট ২’–এর মতো বড় বাজেটের হলিউড সিনেমা এসেছে গেছে। জুন–জুলাইয়ে নতুন ‘স্পাইডার–ম্যান’, ‘দ্য অডিসি’সহ আরও সিনেমা আসবে। প্রায় কোনো প্রচার ছাড়া, তড়িঘড়ি শুটিং আর নামমাত্র এডিট করা ঢাকাই সিনেমা কি পারবে পাল্লা দিতে? এই ঈদ তো আবার বলতে গেলে শেষ মৌসুম, আবার একসঙ্গে এত সিনেমা আসবে হয়তো আগামী বছরের ঈদুল ফিতরে। প্রতিবারের মতো ঈদে সিনেমা দেখতে দর্শক ঠিকই ভিড় করবেন হলে, কিন্তু তাঁরা দেখার মতো যথেষ্ট দেশি সিনেমা পাবেন তো?

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun