1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

এমএআর মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে টিকার সঠিক ব্যবহার

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

ওয়ান হেলথ ট্রাস্ট ও আইসিডিডিআর,বি’র নেতৃত্বে পরিচালিত গ্লোবাল অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স পার্টনারশিপ (গার্প) প্রকাশিত একটি নতুন নীতিমালা ব্রিফে বলা হয়েছে, টিকার ব্যাপক ও সঠিক ব্যবহার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এমএআর) মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

‘বাংলাদেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় টিকার গুরুত্ব’— শীর্ষক এই ব্রিফে উল্লেখ করা হয়, টিকা শুধু রোগ প্রতিরোধেই কার্যকর নয়, বরং অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতে, রোগ বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে ও সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে, যা ভবিষ্যতে এমএআর ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করবে।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় টিকার ভূমিকা সম্পর্কে বিভিন্ন দেশের প্রসঙ্গ ও বহুস্তরীয় তথ্য-বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গার্প একটি বিশেষ নীতিবিষয়ক পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। 

বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ, আইভরি কোস্ট, ভারত, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেপাল, পাকিস্তান, উগান্ডা ও ভিয়েতনাম।

বাংলাদেশে এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুতের জন্য সরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক ডিপথেরিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও স্বাস্থ্য খাতের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে ব্রিফে বলা হয়, টিকাদান কর্মসূচিকে অধিকতর সুসংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে রোগ প্রতিরোধ আরও সহজ হবে। 

এতে আরও বলা হয়, টিকা গ্রহণে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়লে দেশ দ্রুততম সময়ে সুরক্ষিত জনগোষ্ঠীর দিকে এগিয়ে যাবে।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধী ক্ষমতা দ্রুত বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হওয়ায়, টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা। 

আইসিডিডিআর,বি ও গার্প-টিম বাংলাদেশের সভাপতি ডা. ওয়ারিস আলী খান বলেন, সংক্রমণ কমানো, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হ্রাস ও ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার রোধে টিকা অত্যন্ত কার্যকর ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি। 

তিনি আরও বলেন, টিকা গ্রহণে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, সংক্রমণ কমে ও এএমআর ঝুঁকি হ্রাসে এটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। 

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাদানের অগ্রগতি জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সাল থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এএমআর-এর কারণে ৩ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে। 

বাংলাদেশে ২০২১ সালে এএমআর-সম্পর্কিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯৬ হাজার ৮৭৮, যার মধ্যে সরাসরি এএমআর-এর কারণে মৃত্যু হয়েছে ২৩ হাজার ৪৫৪ জনের। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রবণতা রোধে এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর একটি। 

টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে ধনুষ্টঙ্কার নির্মূল, শিশুমৃত্যু হ্রাস ও রুবেলা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সাফল্য অর্জিত হলেও এ সাফল্য বজায় রাখতে হলে আরও বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অর্জনগুলোকে টেকসই করতে না পারলে, ভবিষ্যতে এএমআর-সম্পর্কিত ঝুঁকিও বাড়বে।

ওয়ান হেলথ ট্রাস্ট-এর গবেষণা ও পার্টনারশিপ পরিচালক ডা. অ্যানিতা খানজি বলেন, বিশ্ব এখন প্রতিরোধভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে আগ্রহী হচ্ছে এবং এএমআর মোকাবিলায় টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি টিকাদানের সম্প্রসারণ এএমআর-এর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম।

ওয়ান হেলথ কাঠামোর আওতায় আইসিডিডিআর,বি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত গার্প-টিম বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকাদানের কভারেজ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশে এএমআর-এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বজনীন শিশুর টিকাদান কভারেজ বজায় রাখা, এএমআর প্রতিরোধে সক্ষম টিকার প্রাপ্যতা সম্প্রসারণ ও জাতীয় এএমআর-প্রতিরোধ কৌশলে টিকাদানকে আরও শক্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। 

পাশাপাশি টিকা-সম্পর্কিত গবেষণা, নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সময়মতো ও সঠিকভাবে টিকা গ্রহণের হার বাড়ানো গেলে, বাংলাদেশ এএমআর-এর ঝুঁকি কমাতে ও ভবিষ্যতের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun