বিশ্বের এমন কিছু দেশ রয়েছে যারা আগামী ৫০ বছরের মধ্যে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। এই সংকটের তালিকায় যখন যুক্তরাজ্য, উত্তর কোরিয়া কিংবা স্পেনের মত দেশগুলোকে দেখা যায় তখন প্রশ্ন জাগে কিম পরিবারের পতনের পর কী হবে কোরিয়ায়? ব্রিটিশদের গণতন্ত্রের শেষ পরিণতি কী? স্পেনের ফুটবলের ভবিষ্যৎই বা কী হতে চলেছে! ইতিহাস বলছে, মানচিত্র বদলে যায়, যা আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত ঘটে।
রাজনৈতিক সীমানা আপাতদৃষ্টিতে স্থায়ী মনে হলেও রোমান সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়ন কিংবা যুগোস্লাভিয়া, একসময়ের পরিচিত বহু দেশই বিলুপ্ত হয়েছে, মিশে গেছে অন্য দেশের সঙ্গে অথবা টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলরেখা ও সম্পদের ওপর হুমকি এবং রাজনৈতিক ও জাতিগত চাপে পুরোনো ঔপনিবেশিক সীমানার ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আজ বিশ্বের এমন কিছু দেশ রয়েছে, যা আগামী ৫০ বছরের মধ্যে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
মালদ্বীপ: ডুবতে থাকা স্বর্গ
মালদ্বীপের অধিকাংশ ভূখণ্ড সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সামান্য উঁচুতে অবস্থিত। সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দ্বীপরাষ্ট্রটি আক্ষরিক অর্থেই ধীরে ধীরে তার মাটি হারাচ্ছে। দেশটি ইতোমধ্যে তাদের নাগরিকদের জন্য বিকল্প বাসস্থান হিসেবে বিদেশে জমি কেনার মতো নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে একটি দেশ যদি সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যায়, তবে তার অস্তিত্ব কীভাবে বজায় থাকবে-মালদ্বীপের ভবিষ্যৎ হয়তো সেই প্রশ্নেরই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
বেলজিয়াম: কাগজে-কলমে এক
বেলজিয়ামের জাতীয় নীতি ‘একতাই বল’, বাস্তবতার চেয়ে যেন একটি আশাবাদ মাত্র। ডাচ-ভাষী ফ্ল্যান্ডার্স এবং ফরাসি-ভাষী ওয়ালোনিয়ার মানুষ ভাষা, রাজনীতি, গণমাধ্যম এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার দিক থেকে ইতোমধ্যে দুটি আলাদা দেশের মতো বসবাস করছে। ১৮৩০ সালে একটি সমঝোতার মাধ্যমে গড়ে ওঠা ব্রাসেলস শহরটিই এখন পর্যন্ত বেলজিয়ামকে একসঙ্গে ধরে রেখেছে। তবে ক্রমবর্ধমান ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক উত্তেজনা এই কৃত্রিম বাফার বা মধ্যবর্তী অবস্থাকে ভেঙে ফেলার হুমকি দিচ্ছে, যা দেশটিকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
কিরিবাতির টিকে থাকার লড়াই
গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে ভূমিকা না থাকলেও কিরিবাতির নিচু প্রবাল দ্বীপগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি হিসেবে সে দেশের সরকার ফিজি-তে ৬ হাজার একর (প্রায় ২,৫০০ হেক্টর) জমি কিনেছে, যাতে তাদের নাগরিকদের একটি পরিকল্পিত ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন নিশ্চিত করা যায়। ইতোমধ্যে কিছু দ্বীপ হারিয়ে গেছে এবং লবণাক্ত পানি সুপেয় পানির উৎসগুলোকে নষ্ট করছে। কিরিবাতির জন্য আসল প্রশ্ন এটি নয় যে পুনর্বাসন হবে কি না, তবে প্রশ্ন হলো এটি কখন ঘটবে এবং এরপরও জাতি হিসেবে তারা তাদের সার্বভৌমত্ব ধরে রাখতে পারবে কি না।
বসনিয়ার নাজুক ভারসাম্য
বসনিয়ার ইতিহাস বেশ অশান্ত এবং এর রাজনৈতিক ব্যবস্থা ১৯৯৫ সালের ডেটন চুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি জটিল জোড়াতালির মতো। দেশটি দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত, যা প্রধান প্রধান জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী তিনজন প্রেসিডেন্ট এবং বেশ কয়েকটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল দ্বারা পরিচালিত হয়। এখানকার ‘রেপাবলিকা শ্রপস্কা’ প্রায়শই বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা বলে, অন্যদিকে ক্রোয়াট অধ্যুষিত এলাকাগুলো তাদের নিজস্ব অঞ্চলের দাবি জানায়। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘ মেয়াদে বসনিয়ার স্থিতিশীলতা এবং অপরিবর্তিত থাকার ক্ষমতাকে সন্দেহের মুখে ফেলেছে। উত্তর কোরিয়া: দেয়ালে ফাটল
উত্তর কোরিয়ার পতন নিয়ে অসংখ্য ভবিষ্যৎবাণী ভুল প্রমাণিত হলেও এর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। ব্যাপক চাষাবাদের পরও দেশটিতে খাদ্যঘাটতি লেগেই আছে, অন্যদিকে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা বিদেশি তথ্য ও গণমাধ্যম দেশটির কঠোর তথ্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ক্রমশ দুর্বল করে দিচ্ছে। কিম বংশের অবসানের পর কী ঘটবে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই দেশের ভাগ্য। ক্ষমতার শূন্যতা, অভ্যন্তরীণ পতন বা বাহ্যিক চাপ কোরীয় উপদ্বীপের মানচিত্র পুনর্নির্ধারণ করতে পারে, যা পুনরায় একত্রীকরণের মাধ্যমে একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অস্তিত্বের অবসান ঘটাতে পারে।
ইয়েমেন: এক বিভক্ত দেশ
ইয়েমেন হয়তো এখনও মানচিত্রে দৃশ্যমান, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে চলা নৃশংস গৃহযুদ্ধ দেশটিকে চেনা রূপের বাইরে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছে। এর নিয়ন্ত্রণ এখন উত্তর-পশ্চিমে হুথি বিদ্রোহী, দক্ষিণে জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত। ১৯৯০ সালে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের একত্রীকরণের আগের বিভক্তির ইতিহাসই যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে বর্তমানের এই বিশৃঙ্খলা। ভেঙে পড়া অবকাঠামো এবং গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে ইয়েমেন এটিই প্রমাণ করছে যে, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি থাকার পরও একটি রাষ্ট্র কীভাবে ভেঙে পড়তে পারে।
টুভ্যালু: জোয়ারের পানি, উচ্চ ঝুঁকি
বসবাসের অযোগ্য হওয়ার জন্য টুভালুর পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র জোয়ারের কারণে শুষ্ক গ্রামগুলো অগভীর জলাশয়ে পরিণত হয়েছে, ফলে স্থানীয়দের ঘরের বাইরে যাতায়াতের জন্য লবণাক্ত পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে। পুরোপুরি পানির নিচে যাওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল এবং দূষিত সুপেয় পানির কারণে মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হতে পারে। টুভ্যালুর নাগরিকদের জন্য নিউজিল্যান্ডের বিশেষ ভিসা লটারি ভবিষ্যতের এক ইঙ্গিত দেয় যে, যখন একটি দেশের অর্ধেকের বেশি নাগরিক দেশের বাইরে বসবাস করবে, তখন সেই দেশের অস্তিত্বের কী হবে?
লিবিয়া: কয়েক ভাগে বিভক্ত
২০১১ সালে গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী দুই সরকারের মধ্যে বিভক্ত। এই বিশৃঙ্খলা দেশটির অতীতেরই প্রতিধ্বনি, কারণ ঔপনিবেশিক শাসনের আগে ত্রিপোলিটানিয়া, সাইরেনাইকা এবং ফেজ্জানের মতো অঞ্চলগুলো একটি একক দেশের চেয়ে আলাদা আলাদা রাষ্ট্রের মতোই পরিচালিত হতো। বিশাল তেলসম্পদ থাকলেও তা লিবিয়াকে জাতীয় ঐক্যের সুতোয় বাঁধতে পারেনি। কার্যকর কেন্দ্রীয় শাসন ছাড়া এক দশকেরও বেশি সময় পার হওয়ায় বিভেদ আরও গভীর হয়েছে এবং প্রতি বছর পুনরেকত্রীকরণের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে আসছে।
যুক্তরাজ্য সংকটে
যুক্তরাজ্যের ঐক্য এখন বড় ধরনের চাপের মুখে। ব্রেক্সিটের পর স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। কেননা, ইইউ-তে থাকার পক্ষে ব্যাপক ভোট দেওয়া সত্ত্বেও ব্রেক্সিটের মাধ্যমে স্কটল্যান্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার কারণে সেখানে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, নর্দান আয়ারল্যান্ডও ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। ব্রেক্সিটের প্রভাব এবং জনসংখ্যার পরিবর্তন আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের ধারণাকে দূরবর্তী বিষয় থেকে একটি বাস্তব সম্ভাবনায় রূপ দিচ্ছে। যেকোনও উপায়েই হোক, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ হয়তো সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিতে যাচ্ছে।
সোমালিয়ার ভঙ্গুর বাস্তবতা
সোমালিয়া একটি কার্যক্ষম রাষ্ট্রের চেয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ‘ধারণা’ মাত্র। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি এমন এক খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় রয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ রাজধানী মোগাদিশুর বাইরে খুব একটা পৌঁছায় না। ১৯৯১ সাল থেকে ‘সোমালিল্যান্ড’ নিজস্ব সরকার, মুদ্রা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি স্বাধীন দেশের মতো পরিচালিত হলেও এর কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। এদিকে সোমালিয়ার ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায়, এই দুই অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক বিভক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
চাপে স্পেন
আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদের সঙ্গে স্পেনের লড়াই দেশটির ভেতরের ফাটলগুলোকে প্রকাশ্যে এনেছে। ২০১৭ সালের কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা সংকট দেখিয়েছে যে, দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ইউরোপীয় গণতন্ত্রকেও কীভাবে স্থানীয় পরিচয় চ্যালেঞ্জ করতে পারে। আইন ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে স্পেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখলেও উত্তেজনা এখনও কাটেনি। কাতালোনিয়ার শক্তিশালী অর্থনীতি এবং অনন্য সংস্কৃতি স্বাধীনতার আশাকে বাঁচিয়ে রেখেছে, অন্যদিকে বাস্ক কান্ট্রিও ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে, যা বিচ্ছিন্নতাবাদকে জিইয়ে রেখেছে।
ইরাকের অস্থিতিশীল সীমান্ত
ইরাকের ঔপনিবেশিক আমলের সীমানা দেশটির গভীর জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজনকে উপেক্ষা করে তৈরি হয়েছিল, যার ফলে সেখানে সার্বক্ষণিক উত্তেজনা বিরাজ করে। কুর্দিস্তান অঞ্চলটি নিজস্ব নিরাপত্তা এবং তেল বিক্রির মতো ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা ইরাকের জাতীয় সংহতির ফাটলকে স্পষ্ট করে তোলে। ২০১৭ সালের গণভোট সফল না হলেও কুর্দিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এখনও প্রবল। শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার এবং সুন্নি অঞ্চলগুলোর মধ্যকার উপদলীয় কোন্দল ইরাকের মানচিত্রকে জাতিগত ও ধর্মীয় লাইনে পুনর্নির্ধারণ করতে পারে।
শাসন সংকটে হাইতি
হাইতি এমন এক শাসন সংকটের মুখোমুখি, যা তার অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং গ্যাং সহিংসতা দেশের নিয়ন্ত্রণকে এমনভাবে খণ্ডিত করেছে যে, সরকারের নিয়ন্ত্রণ এখন শুধু রাজধানীর কিছু অংশে সীমাবদ্ধ। পোর্ট-অ-প্রিন্সের বেশিরভাগ অংশই এখন গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে এবং গ্রামীণ অঞ্চলগুলো প্রায় সহায়তাহীন। বহু আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও হাইতির শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত ভঙ্গুর রয়ে গেছে, যা কোনও আমূল পরিবর্তন বা বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্পূর্ণ পতনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সাইপ্রাস: এক দ্বীপে দুই দেশ
১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘রিপাবলিক’ এবং কেবল তুরস্ক দ্বারা স্বীকৃত ‘উত্তর সাইপ্রাস’ এই দুই ভাগে বিভক্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপ এবং শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও জাতিগত বিভাজন দ্বীপটিকে বিভক্ত করে রেখেছে। কয়েক দশকের এই বিচ্ছিন্নতা বাফার জোনের দুই পাশে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সমাজ গড়ে তুলেছে। পুনরেকত্রীকরণ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ায় দ্বীপটির ভবিষ্যৎ হয়তো এই বিভাজন কাটিয়ে ওঠা, নয়তো আনুষ্ঠানিক বিভক্তি মেনে নেওয়ার দিকেই যাচ্ছে।
মলদোভা-র অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে দোদুল্যমান মলদোভা নিজের রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড এবং ১৯৯২ সাল থেকে রাশিয়ার সমর্থনে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা অস্বীকৃত রাষ্ট্র ট্রান্সনিস্ট্রিয়ার মধ্যে বিভক্ত। পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে আটকে থাকা মলদোভা-র সংকট আরও গভীর হয়েছে রাশিয়াপন্থি গ্যাগাউজিয়া এবং রোমানিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে। ইউক্রেন সংঘাতের ফলে এর ভবিষ্যৎ আরও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে, যা দেশটিকে হয়তো রোমানিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়া অথবা আরও বড় বিভক্তির ঝুঁকিতে ফেলছে।