‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ এর আওতায় সুন্দরবনে পরিচালিত পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ দুর্ধর্ষ দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
আজ শুক্রবার সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বাসসকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এ লক্ষ্যে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় সপ্তমবারের মতো পরিচালিত এ অভিযানে দুটি পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ২১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গহিনে প্রবেশ করলে দুর্ধর্ষ দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, জিম্মিকৃত জেলেদের নিয়ে দয়াল বাহিনীর সদস্যরা কয়রা থানাধীন আন্দারমানিকের টোটা ও কেওড়াতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা উক্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা সুন্দরবনের গভীরে পালিয়ে যায়। পরে অভিযানিক দল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দয়াল বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ১০ জন জেলেকে উদ্ধার করে।
অন্যদিকে, কোস্ট গার্ড ও র্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন বিকেল ৫টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা উক্ত এলাকায় আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা অভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা আরও ১১ জন জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।