বিশ্বজুড়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ার মধ্যে একসঙ্গে কাজ করতে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। এই সমঝোতার লক্ষ্য—গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল ধাতুর সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষিত করা এবং একক আধিপত্যের ঝুঁকি কমানো।
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই কাঠামোগত চুক্তিতে খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এসব খনিজ ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক যন্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এসব উপাদান অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হলেও সরবরাহব্যবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল এবং আরও ২৯টি খনিজের ক্ষেত্রে অন্তত অর্ধেক চাহিদাও বিদেশ থেকে পূরণ করে।
বিরল খনিজের মধ্যে স্ক্যান্ডিয়াম, ইট্রিয়াম ও ১৫টি ল্যান্থানাইড মৌল উল্লেখযোগ্য। এসব উপাদান শক্তিশালী চুম্বক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি, চিকিৎসা প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের মোট বিরল খনিজের প্রায় ৬০ শতাংশ একটি দেশেই (চীনে) রয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রায় ৯০ শতাংশও চীনে হয়। এই একক নিয়ন্ত্রণ কমাতে বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে কাজ করছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, ভারতে মনাজাইট নামে একটি খনিজের প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ টন মজুত রয়েছে, যা বিরল খনিজের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই সম্পদ কাজে লাগাতে বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ খনিজ করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয়, বরং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় ভারসাম্য আনার এক কৌশলগত পদক্ষেপ।