1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আটকের ভয়ে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে শত শত মানুষের ঢল, বাংলাদেশে ঢোকার আপ্রাণ চেষ্টা শেষ হলো হজের আনুষ্ঠানিকতা, রাতেই শুরু হচ্ছে ফিরতি ফ্লাইট ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের শান্তিচুক্তির সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে ১৭ শতাংশ কমলো তেলের দাম দিনে ২৫ কেজি ঘাস, আধা মণ পানির সঙ্গে ছোলা-ভুসি খাচ্ছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ চেকপোস্ট দেখে পালাতে গিয়ে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে ‘একঘরে’ করতে গিয়ে উল্টো বিপাকে ভারত সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল শুরু মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন সিস্টেম বিকল, সীমান্তজুড়ে চরম ভোগান্তি

মায়ের হাতের রান্না মাংস খাওয়া হলো না, সংঘর্ষের কথা শুনে বের হয়ে প্রাণ গেল কিশোরের

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

ঈদের দিন সন্ধ্যায় চুলায় রান্না হচ্ছিল গরুর মাংস। ক্ষুধার্ত ছেলে বারবার মাকে বলছিল, ‘তাড়াতাড়ি রুটি দাও, মাংস দাও।’ কিন্তু মায়ের হাতের সেই রান্না আর খাওয়া হয়নি কিশোর মো. ইব্রাহিমের (১৫)। বাড়ির পাশে সংঘর্ষের কথা শুনে বের হয়ে প্রাণ গেল তার। ছেলেকে হারিয়ে আহাজারি করছেন মা নুর নাহার বেগম। এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে ঈদের আনন্দ।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালী এলাকায়। নিহত ইব্রাহিম স্থানীয় বাসিন্দা শামশুল আলমের ছেলে। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর মায়ের সঙ্গে থাকত সে।

পুলিশ জানিয়েছে, পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে মারধরের শিকার হয় ইব্রাহিম। এ ঘটনায় রবিউল আলম (২৪) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেলে শাহপরীর দ্বীপ-হারিয়াখালী সড়কের ৩ নম্বর ব্রিজ এলাকায় কয়েকজন তরুণের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রাতে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষ দেখতে গিয়ে আহত হয় ইব্রাহিম।

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহত কিশোরের স্বজনেরা জানান, ঈদের দিন দুপুরে অন্যের বাড়িতে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজে গিয়েছিলেন মা-ছেলে। কাজ শেষে তাঁরা তিন কেজি গরুর মাংস পান। সন্ধ্যায় সেই মাংস নিয়ে বাড়ি ফেরেন নুর নাহার বেগম। বাড়িতে ফিরে দ্রুত রান্না শেষ করার জন্য মাকে তাগাদা দিচ্ছিল ইব্রাহিম।

ছেলের শেষ মুহূর্তের স্মৃতি বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা নুর নাহার। তিনি বলেন, ‘ছেলে গোসল করে এসে বলছিল, মা, রুটি আর মাংস খাব। মাংস পুরো সেদ্ধ হয়নি, একটা টুকরা মুখে দিয়েও খেতে পারেনি। বাইরে ঝগড়ার শব্দ শুনে দৌড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর দেখি মানুষ আমার রক্তাক্ত ছেলেকে কোলে করে নিয়ে আসছে।’

নুর নাহারের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁর ছেলেকে বেধড়ক মারধর করেছে। তিনি ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun