ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রোববার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না। ইরানি জনগণের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরান কোনো ধরনের চুক্তিতে সম্মত হবে না।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে আরও কঠোর শর্তসংবলিত একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য ও অবিশ্বাস আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চুক্তির খসড়া প্রস্তাবে নতুন যে কোনো পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা আরও বিলম্বিত করতে পারে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনায় কড়া বক্তব্য ও মাঝেমধ্যে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। সেই সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানে। এতে ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হয়।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সন্দেহ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে।
শনিবার মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছে আরও কঠোর শর্তযুক্ত একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
তবে এর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা।
ফক্স নিউজে পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চয়তা হলো, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তারা এ বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যা আমার কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।’
তবে তেহরান এর আগেও ট্রাম্পের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় গালিবাফ বলেন, ‘ইরানি জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হয়েছেÑ এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো চুক্তি অনুমোদন করব না।’
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, চুক্তির খসড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও নিয়মিত সংশোধনী ও পাল্টা প্রস্তাব বিনিময় চলছে।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে যা কিছু বলা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অনুমাননির্ভর।’
ইরান জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অর্থবহ আলোচনায় যাওয়ার আগে দেশটির প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার জব্দকৃত সম্পদ ছাড় করতে হবে।
এছাড়া, দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংস করে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বক্তব্যকে তারা ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দিয়েছে।