আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে সম্প্রতি ব্রাজিলে আসা দুই জন রোগীর ইবোলা-সংশ্লিষ্ট উপসর্গ দেখা দেওয়ায়, তাদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে পরে তাদের মধ্যে একজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। দেশটির কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সাও পাওলো রাজ্য সরকার শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সম্প্রতি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) থেকে ভ্রমণ করেছেন। সেখানে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ওই ব্যক্তিকে সাও পাওলোর এমিলিও রিবাস সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
কর্মকর্তারা রোববার জানান, ওই রোগীর মধ্যে মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের চারপাশের ভাইরাসের একটি গুরুতর ধরন শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তার শরীরে ইবোলা আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
উগান্ডা থেকে গত ২২ মে ব্রাজিলে আগত আরেকজন ব্যক্তিকে রিও ডি জেনেইরোতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার মধ্যে কাশি, ঠান্ডা লাগা ও ডায়রিয়ার মতো ভাইরাসজনিত উপসর্গ দেখা গেছে।
রিও সিটি হল রোববার এএফপিকে জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির পরীক্ষায় ম্যালেরিয়া ধরা পড়েছে। তবে ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির পরীক্ষায় ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইসোলেশনে রাখা হবে।
আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ইবোলা সন্দেহভাজন সহস্রাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উগান্ডা সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েকটি সংক্রমণ ও একটি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, ডিআরসিতে এই প্রাদুর্ভাবটি শনাক্ত হওয়ার আগেই সম্ভবত ছড়িয়ে পড়েছিল, তাই বাস্তবে এর বিস্তার আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাও পাওলো সরকার জানিয়েছে, সন্দেহভাজন এই রোগীর ঘটনা সত্ত্বেও, প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে দেখা গেছে যে এই রোগ ব্রাজিল ও দক্ষিণ আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনো খুবই কম।