জাপানের উত্তরাঞ্চলে চারজনকে আক্রমণ করে আহত করার পর একটি ‘অত্যন্ত বুদ্ধিমান’ ভালুুক এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
ফুকুশিমা শহরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাণীটিকে আটকানোর চেষ্টা করা হলেও সেটি একটি জানালার লক (খিল) এবং পানির কল (ট্যাপ) খুলে পালিয়ে গেছে। আজ শুক্রবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ফুকুশিমার দুটি কারখানায় চারজনকে আক্রমণ করার পর ভালুুকটি একটি ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে শিকারি ও উদ্ধারকর্মীরা ফাঁদ এবং চেতনানাশক (অ্যানেস্থেটিক) বন্দুক ব্যবহার করে সেটিকে ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গত বুধবার রাতে এটি পালিয়ে যায়।
ফুকুশিমার একজন কর্মকর্তা শুক্রবার সকালে এএফপিকে জানান, ভালুুকটি এখনো ধরা পড়েনি।
ফুকুশিমা শহরের মেয়র ইউকি বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ভবনের ভেতরে পাওয়া বিভিন্ন প্রমাণ থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ভালুুকটি নিজেই জানালার লক খুলে পালিয়েছে। কারণ জানালা দিয়ে বের হওয়ার জায়গায় নখের আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
মেয়র আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে ভালুুকটি পানি পান করার জন্য নিজেই পানির কল বা ট্যাপ ছেড়েছিল।
আর এই অদ্ভুত আচরণের কারণেই এটিকে ‘অত্যন্ত বুদ্ধিমান’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, ‘শিকারি, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সহযোগিতায় আমরা প্রাণীটিকে ধরার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সবোর্চ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও এটিকে শেষ পর্যন্ত ধরতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জাপানে গত বছর ভালুুকের আক্রমণে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে শীতনিদ্রা (হাইবারনেশন) থেকে জেগে ওঠার পর খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ভালুুক চলে আসার ঘটনাও অনেক বেড়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত জাপানে ৫০ হাজারেরও বেশি ভালুুক দেখার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দুই বছর আগের রেকর্ডের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। প্রায় প্রতিদিনই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভালুুককে মানুষের ঘরবাড়িতে ঢুকতে, স্কুলের কাছে ঘোরাঘুরি করতে এবং সুপারমার্কেট ও উষ্ণ প্রস্রবণ (হট স্প্রিং) রিসোর্টগুলোতে তাণ্ডব চালাতে দেখা যাচ্ছে।