1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪০৪ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর থেকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানাল মস্কো উচ্চশিক্ষার সংকট নিরসনে অংশীজন সংলাপ ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে ইউজিসি জেনেভায় আইএলও মহাপরিচালকের সঙ্গে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাক্ষাৎ মাটির উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে হবে : কৃষিমন্ত্রী ৫ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী নারী ও শিশুর সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী 

ইআইআর প্রকল্পের বহুমুখী সুফল সরকারের খাল খনন কর্মসূচির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

সদ্য বাস্তবায়িত ইআইআর প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুরের মানুষ কৃষি ও অন্যান্য বিভিন্ন খাতে বহুমুখী সুফল পেতে শুরু করেছেন, যা সরকারের দেশব্যাপী চলমান খাল খনন কর্মসূচির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।

এই প্রকল্পটি শুধু ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনই আনেনি, বরং বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে পরিবেশের উন্নতি, বাস্তুতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন, ভূপৃষ্ঠের পানি সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণেও ভূমিকা রাখছে।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বিএমডিএ ২৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর (২০১৯-২০২৪) মেয়াদি ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ (ইআরপি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

বিএমডিএ কর্মকর্তারা জানান, ভূ-পৃষ্ঠের পানি সংরক্ষণ প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ায় এবং সংরক্ষিত পানির ব্যবহার বৃহত্তর রংপুরের ৩৫টি উপজেলার ৩৩ হাজার ৩২৮টি কৃষক পরিবারকে বছরে ৪১৮ কোটি টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪ টন ধান উৎপাদনে সহায়তা করছে।

এই প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি বিলুপ্ত খালের ২৩০ কিলোমিটার, ১০টি বিল ও ৮৮টি পুকুর পুনঃখনন, ৩০টি সৌরশক্তি চালিত ও ১৮৩টি বিদ্যুৎ চালিত লো-লিফট পাম্প, ৫০টি সৌরশক্তি চালিত খননকৃত কূপ, ১৬টি ফুটওভার ব্রিজ এবং নয়টি ক্রস ড্যাম স্থাপন করা হয়েছে।

এর ফলে, সংরক্ষিত ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে ১৩,৪০৫ হেক্টর জমিতে সেচ ও সম্পূরক সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে বছরে ৩৭০ কোটি টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ১৫২ টন ধান উৎপাদিত হচ্ছে।

বিলুপ্ত খাল ও জলাশয় খননের ফলে প্রকল্প এলাকায় আরও ১ হাজার হেক্টর জমি আংশিক জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে, যার ফলে প্রতি বছর ১৫ কোটি টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ৫ হাজার টন ধান উৎপাদিত হচ্ছে।

এছাড়া, ১ হাজার ১২২ মিটার ভূগর্ভস্থ পিভিসি পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ইজলামারী চর বিল, মিয়ার চর বিল এবং সবুজপাড়া বিলের ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি প্রথমবারের মতো স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে।

এর ফলে, স্থানীয় কৃষকরা এই তিনটি বিলের ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে তিনটি ফসল চাষ করছেন এবং বছরে ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের ১০ হাজহার ৯১২ টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন করছেন।

বিএমডিএ’র সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার এবং ইআইআর প্রকল্পের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. হাবিবুর রহমান খান বিএসএসকে বলেন, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা ১৫ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিকে সেচ ও সম্পূরক সেচ সুবিধার আওতায় এনে বছরে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪ টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।’

এছাড়াও কৃষকরা পুনঃখনন করা খাল ও জলাশয়ের তীরেব ছরে ছয় কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৬৫০ টন বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল ও গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ঘাস এবং ৮০ টন বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ উৎপাদন করছেন।

এছাড়াও, জেলেরা পুনঃখনন করা খাল, বিল ও পুকুরের সংরক্ষিত পানি থেকে বহু স্থানীয় ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছ ধরছেন, অন্যদিকে মহিলারা ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য হাঁস পালন করছেন এবং প্রতিদিন গৃহস্থালীর কাজে এই জল ব্যবহার করছেন।

খান বলেন, ‘প্রকল্প এলাকায় বনভূমি ও সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশের উন্নতি এবং বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আমরা পুনঃখনন করা খাল ও জলাশয়ের তীরে কাঠ, ঔষধি, শোভাবর্ধক ও ঔষধি গাছের ২.৩০ লক্ষ চারা রোপণ করেছি।’

পুনঃখনন করা জলাশয়গুলির তীরে রঙিন ফুল, পাখি এবং গাছপালা একত্রিত হয়ে এক মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য সৃষ্টি করে, যা প্রকৃতি ও মানুষের ভালোবাসার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং মানুষের মনকে বিস্ময়ে ভরিয়ে তোলে।

তিনি বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলে প্রকৃতিকে সবুজ রূপ দিতে বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং পরিবেশের উন্নতি সাধনে ইআইআর প্রকল্পটি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার সাঙ্খরপুর গ্রামের মশিউর রহমান বলেন, বিলুপ্তপ্রায় মরা তিস্তা নদী পুনঃখননের ফলে কৃষকদের বিস্তীর্ণ জমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে এবং চার দশক পর তারা সেখানে প্রথমবারের মত আমন ধান চাষ করতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, পুনঃখনন করা মরা তিস্তা নদীতে স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষ মাছ ধরছেন, যেখানে নদীর তীরে গাছের চারা রোপণের ফলে প্রকৃতি সবুজ হয়ে উঠেছে এবং বাস্তুতন্ত্রও পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে।

একই গ্রামের গৃহিণী শিউলি বেগম বলেন, মরা তিস্তা নদী পুনঃখননের পর স্থানীয় মহিলারা নদীর তীরে হাঁস পালন এবং কলা, শাকসবজি ও নেপিয়ার ঘাস চাষ করে তাদের জীবিকা উন্নত করছেন।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চর বেরুবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, বোয়ালেরদারা খাল পুনঃখননের ফলে বিশাল এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে এবং চার দশক পর সেখানে বছরে তিনটি ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ার খান মত প্রকাশ করেন, ‘ইআইআর প্রকল্পের মতো, দেশব্যাপী সরকারের চলমান খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন পুরো কৃষি-অর্থনীতিকে কার্যকরভাবে পরিবর্তন করতে পারে এবং পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের উন্নতির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পারে।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun