২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘সাহসী, সৃজনশীল ও ব্যবসাবান্ধব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)।
সংগঠনটি বলেছে, বাজেটে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ইতিবাচক বার্তা রয়েছে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে কার্যকর ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের ওপর।
আজ (শুক্রবার) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি প্রথাগত অর্থনৈতিক চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, করের বোঝা কমানো এবং সরকারি সেবার অটোমেশনের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সংগঠনটির মতে, বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনীর জন্য ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব ইতিবাচক উদ্যোগ। মোট উন্নয়ন ব্যয় ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বড় ধরনের বরাদ্দ প্রবৃদ্ধি সহায়ক হবে।
একই সঙ্গে এনবিআরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভ্যাট অটোমেশন, কাস্টমস আধুনিকায়ন এবং ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।
বাজেটে রপ্তানি খাতে কর হ্রাস, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা, ভ্যাট আপিলে জমার হার কমানো এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতির মতো উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে বিল্ড। পাশাপাশি ছোট রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির সুবিধা আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেছে তারা।
গ্রিন ইকোনমি প্রসঙ্গে সংগঠনটি বলেছে, বৈদ্যুতিক যানবাহন, চার্জিং অবকাঠামো এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর ও শুল্ক ছাড় পরিবেশবান্ধব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা আকৃষ্ট করতে কর সুবিধার পাশপাশি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
বিল্ড বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনীতিকে নতুন গতিপথে নেওয়ার একটি সাহসী উদ্যোগ। কাক্সিক্ষত ফল পেতে নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব সংস্কার বাস্তবে রূপ দেওয়া জরুরী।