ইংলিশ চ্যানেলে যুক্তরাজ্যের নিবন্ধিত একটি ইয়টের গতিপথ রোধ ও সতর্ক করার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ব্রিটিশ ইয়টটি এমন একটি বিপজ্জনক গতিপথের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, যা সরাসরি তাদের যুদ্ধজাহাজের সাথে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করত।
তবে যুক্তরাজ্য বলছে, জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়নি।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিরক্ষা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, আইল অফ ওয়াইটের প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে, ব্রিটিশ জলসীমার ঠিক বাইরে, রুশ ফ্রিগেট ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’ ও যুক্তরাজ্যের নিবন্ধিত একটি ইয়টের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।
রোববার ইংলিশ চ্যানেলের একই এলাকায় যুক্তরাজ্যের কমান্ডোরা রাশিয়ার একটি সন্দেহভাজন জাহাজে অভিযান ও তাতে আরোহণ করার পর, লন্ডন ও মস্কোর মধ্যে সমুদ্রে সর্বশেষ এই উত্তেজনার সৃষ্টি হলো।
ঘটনার দিন ফ্রান্সে জি-৭ নেতারা বৈঠক করছিলেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়ানোর বিষয়ে তারা একমত হন।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘চ্যানেলে একটি ব্রিটিশ জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করার পর গ্রিগোরোভিচ সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। এগুলো জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়নি, বরং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়।’
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ঘটনাটি ‘একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ এবং এটি আগের অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
যুক্তরাজ্যের সামরিক সূত্রগুলো ধারণা করছে, ঘটনার সময় রুশ ফ্রিগেটটি নিজস্ব শক্তিতে চালিত না হয়ে ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থায় সাগরে ভেসে যাচ্ছিল ছিল, যা নৌযানটিকে তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলেছিল।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইয়টটির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সংকেতবাতি (ফ্লেয়ার) ছোড়া হয় এবং শব্দ সংকেত দেওয়া হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইয়টটির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রথমে সংকেতবাতি (ফ্লেয়ার) ও শব্দ সংকেত ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এতেও ইয়টটি কাছাকাছি আসতে থাকে।
সব পদক্ষেপ সত্ত্বেও নৌযানটি তার ওই ফ্রিগেটের দিকে বিপজ্জনকভাবে এগিয়ে আসা অব্যাহত রাখে বলে মস্কো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এরপর ফ্রিগেটের কমান্ডার ছোট অস্ত্র দিয়ে ওই জাহাজের দিকে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার সিদ্ধান্ত নেন।