আর্লিং হালান্ডের দুই গোলে সেনেগালকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে শেষ ৩২’এর টিকিট নিশ্চিত করেছে নরওয়ে।
বদলী খেলোয়াড় মার্কাস হোমগ্রেন পেডারসন নিউ জার্সির ম্যাচে প্রথমার্ধের শেষ ভাগে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন। বিরতির পরপরই হালান্ড ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ইসমালিয়া সার সেনেগালের পক্ষে এক গোল পরিশোধ করেন। কিন্তু হালান্ডের দ্বিতীয় গোলে নরওয়ের জয় সময়ের ব্যপার হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচের শেষভাগে সারের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান কমিয়েছে লড়াকু সেনেগাল।
ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড হালান্ড এনিয়ে এবারের বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে চার গোল করলেন।
শেষ ১৮ ম্যাচে নরওয়ে মাত্র একটি ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। আগামী শুক্রবার গ্রুপ-আই’র শীর্ষস্থানের জন্য ফ্রান্সের মোকাবেলা করবে তারা। এই গ্রুপ থেকে দুই দলই ইতোমধ্যেই নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে টিকে থাকতে হলে সেনেগালকে অবশ্যই ইরাককে পরাজিত করতে হবে। এই দুই দলের কেউই এখন পর্যন্ত কোন পয়েন্ট অর্জণ করতে পারেনি।
অপ্রতিরোধ্য হালান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে এই প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে পরপর দুই ম্যাচে জয় আদায় করে নিল। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে হালান্ডের গোলসংখ্যা এখন ৫২ ম্যাচে ৫৯।
নিজেদের ভুলের চড়া মূল্য দেওয়া সেনেগালের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে নরওয়ে প্রমাণ করল যে তারা এই বিশ্বকাপে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম। কালকের পারফরমেন্স দিয়ে তারা এই বিশ্বাসকে আরও জোরালো করেছে।
ম্যাচের শুররুতেই নরওয়ে নিজেদের আধিপত্যের ইঙ্গিত দেয়। কর্নার থেকে ক্রিস্টোফার আয়েরের হেড সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ডো মেন্ডিকে পা দিয়ে অসাধারণ এক সেভ করতে বাধ্য করে। তবে শুরুতেই চোটের কারণে ফুল-ব্যাক জুলিয়ান রায়ারসনকে হারায় নরওয়ে।
অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ডান দিক থেকে আসা দারুণ একটি কাট-ব্যাক সুযোগ নষ্ট করেন। অন্যদিকে নিকোলাস জ্যাকসন ছিলেন সেনেগালের সবচেয়ে বিপজ্জনক আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। ওডেগার্ডেও শট দুর্দান্ত ভাবে রুখে দেন মেন্ডি।
তবে ৪৩ মিনিটে সেনেগাল অধিনায়ক কালিডু কোলিবালির ভয়াবহ ভুলে বক্সের কিনারায় বল পেয়ে যান বদলি রাইট-ব্যাক পেডারসেন। তাঁর নিচু শট মেন্ডির হাত ফসকে জালে প্রবেশ করলে নরওয়ে এগিয়ে যায়।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের তিন মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুন করেন হালান্ড। দ্রুত কাউন্টার এ্যাটাক থেকে ওডেগার্ড বল বাড়িয়ে দেন হালান্ডকে। জোরালো ফিনিশে মেন্ডিকে পরাস্ত করেন তিনি।
সেনেগাল অবশ্য ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। সাদিও মানের দারুন এক ফ্লিক থেকে সার ৫৩ মিনিটে এক গোল শোধ করেন। কিন্তু কোলিবালি আবারও ভুল করেন। প্যাট্রিক বার্গেইর ক্রস তিনি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে হালান্ড বল জালে পাঠান।
ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে সার দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।