1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে ‘লুকোচুরি’, অভিযুক্তকে রক্ষায় কৌশলের অভিযোগ কাউন্সিলর নয় জনগণের সেবক হয়ে কাজ করে যেতে চাই বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে জনতা ব্যাংকের এমডির সঙ্গে জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ কাশিমপুরে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় জমির বাউন্ডারি ভাঙচুর ও লাখ টাকার মালামাল লুট গাজীপুর কাশিমপুরে প্রবাসী নাছিমা আক্তারেকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি থানায় অভিযোগ শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো রাশেদ খান মেননকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা: তেলের দাম বেড়েছে ভারত-ভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযানে গ্রেফতার ২৪  সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী: আপিল বিভাগের রায় কাল চাঁদপুর জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফরিদা ইলিয়াছ গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে ‘লুকোচুরি’, অভিযুক্তকে রক্ষায় কৌশলের অভিযোগ

​নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

​ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার জনাব মোঃ হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে এক অভিনব ‘লুকোচুরি’র খেলা শুরু হয়েছে।

হোয়াইট কলার ক্রাইম বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের নিরপেক্ষ ও আইনি তদন্তের পরিবর্তে উল্টো তথ্য প্রদানকারী সংস্থাকেই ভীতি ও প্রশাসনিক মারপ্যাঁচে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​আইনজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহলের মতে, সরকারি নথিপত্র এবং ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও, অভিযোগকারীকে দুর্নীতির প্রমাণ ও চাক্ষুষ সাক্ষী নিয়ে হাজির হতে বলা মূলত: মূল অভিযুক্ত প্রভাবশালী এই সরকারি কর্মকর্তাকে আড়াল বা রক্ষা করার একটি সুনিপুণ কৌশল।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল মানবাধিকার সংস্থা ‘ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’ র মহাসচিব মোঃ হেমায়েত হোসেন।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী, অর্থ পাচার, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর বিষয়গুলোর ওপর সরজমিনে ও ফরেনসিক অনুসন্ধান চালানোর আইনি এখতিয়ার ও সংবিধিবদ্ধ দায়িত্ব একমাত্র স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের।
​কিন্তু দুদক রহস্যজনকভাবে কালক্ষেপণ করে এবং অভিযুক্তকে এক প্রকার বাঁচানোর তাগিদে অভিযোগটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে (বিচার শাখা-৭) পাঠিয়ে দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে।

আর এই সুযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্তের গতিপ্রকৃতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

আইনি বাস্তবতার লঙ্ঘন
​মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৭-এর সিনিয়র সহকারী সচিবকে পাঠানো এক লিখিত জবাবে ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মহাসচিব মোঃ হেমায়েত হোসেন প্রচলিত আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও উচ্চ আদালতের নজির টেনে এই তদন্তের নামে প্রহসনের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

​জানা গেছে, বিচার শাখা-৭ থেকে আগামী ১৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখে অভিযোগকারী সংস্থাকে “অভিযোগের সমর্থনে যাবতীয় দালিলিক ও মৌখিক সাক্ষ্যসহ সাক্ষীগণকে উপস্থিত থাকার” জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

​প্রচলিত আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষদর্শী বা রসিদ দিয়ে ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটে না। দুর্নীতির অপরাধসমূহ সবসময়ই পর্দার আড়ালে সংঘটিত হয়। ফলে দুর্নীতির তদন্তে মৌখিক সাক্ষী খোঁজা অবাস্তব।
তাছাড়া, অপরাধের মূল প্রমাণক—যেমন মূল ভলিউম বই, নিয়োগের ফাইল বা অডিট নথি—সবই সরকারি হেফাজতে থাকে, যা জব্দ করার আইনি ক্ষমতা কেবল তদন্তকারী কর্মকর্তারই রয়েছে, কোনো সাধারণ নাগরিকের নয়।

​নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, আইন ও বিচার বিভাগেরই বিচার শাখা-৫ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এই দুর্নীতির অভিযোগসমূহ সরজমিনে তদন্ত করার জন্য। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা রহস্যজনকভাবে মন্ত্রণালয়ের সেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে, সরজমিনে তদন্ত না করে ঢাকায় বসে অভিযোগকারীকে ধমকানোর মতো করে নথিপত্র ও সাক্ষী উপস্থাপনের চাপ দিচ্ছেন।

​উচ্চ আদালতের একাধিক প্রতিষ্ঠিত নজির (যেমন: State vs. Md. Abdul Khalek এবং 55 DLR (AD) 103) অনুযায়ী, দুর্নীতি মামলায় মৌখিক সাক্ষ্যের চেয়ে দাপ্তরিক নথিপত্রের চেইন অফ কাস্টডি এবং ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিই আসল।

শেরপুরে থাকাকালীন সাবেক মহা-পরিদর্শক নিবন্ধকের স্বাক্ষর জাল করে যে ভুয়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তা হস্তলেখা বিশারদ দিয়ে পরীক্ষা করানোর দায়িত্ব তদন্ত কর্মকর্তার, অভিযোগকারীর নয়। একইভাবে অভিযুক্তের মালয়েশিয়ায় হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারের অভিযোগটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এর সহায়তায় তদন্ত করার আইনি এখতিয়ার কর্মকর্তার থাকলেও, তিনি তা করছেন না।

​ “অভিযুক্তকে রক্ষার কৌশল”
​পুরো বিষয়টি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিচার ও আইন সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল।

অভিজ্ঞদের মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মন্ত্রণালয়ের একটি পক্ষ এই অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অভিযোগকারীর ওপরই “প্রমাণ ও সাক্ষী সশরীরে হাজির করার” অযৌক্তিক দায় চাপিয়ে দেওয়া প্রকারান্তরে মূল অভিযুক্ত জেলা রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিনকে দায়মুক্তি দেওয়ার এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে আঁতুড়ঘরেই গলা টিপে হত্যা করার নামান্তর। অভিযুক্তের তীব্র প্রশাসনিক বৈরিতা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনা করে ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মনোনীত প্রতিনিধি আগামী ১৩ জুলাই সশরীরে উপস্থিত হতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কাছে থাকা প্রাথমিক সমস্ত তথ্যাদি লিখিত জবাবের সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই তদন্ত সংস্থা কেবল কাগুজে আনুষ্ঠানিকতার অজুহাতে দুর্নীতিবাজকে পার করে দেয়, নাকি স্বীয় আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে সরকারি নথি জব্দ করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun