মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৪ হাজার ২শত ৮৭ টাকা ব্যয়ে ৩টি প্যাকেজে ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত সহজতর এবং জলাবদ্ধতার সীমাহীন দুর্ভোগ লাঘব হবে।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আইইউজিআইপি) আওতায় ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের ৩টি প্যাকেজের আওতায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৪ হাজার ২শত ৮৭ টাকা ব্যয়ে ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
প্রকল্প সমুহের মধ্যে রয়েছে, মুন্সীগঞ্জ সুপার মার্কেট হতে কাচারী মোড় পর্যন্ত আর.সি.সি রাস্তা নির্মান, রেড ক্রিসেন্ট হতে সুপার মার্কেট এবং কাচারী হতে জেলা প্রশাসক অফিস পর্যন্ত কার্পেটিং রাস্তা উন্নয়ন, লঞ্চঘাট হতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় পর্যন্ত আর.সি.সি ড্রেন নির্মাণ, মানিকপুর ১০ তলা হতে সুপার মার্কেট পর্যন্ত আর.সি.সি রাস্তা ড্রেনসহ ফুটপাত নির্মাণ এবং ষ্ট্রিট লাইট স্থাপন, ইসলামী ব্যাংক হতে হাটলক্ষীগঞ্জ মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা বিটুমিন কার্পেটিং, জেলা পরিষদ হতে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত, বৈখর স্কুল হতে বিলেরকানি মসজিদ পর্যন্ত আর.সি.সি রাস্তা, গণকপাড়া মিলন ক্লাব হতে হাসপাতাল রোড পর্যন্ত, মানিক বেপারীর ঘাট হতে ফরাজী বাড়ী ঘাট পর্যন্ত, সুলতান কাউন্সিলের বাড়ি হতে আমির মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত, মুন্সীরহাট ইসলামী ব্যাংক হতে খোকা সাহেবের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন, মুন্সীগঞ্জ সুপার মার্কেট হতে পতাকা ৭১ পর্যন্ত ভিতরের রাস্তার কার্পেটিং, বৈখর অনির্বান স্কুল হতে বিলের কানি মসজিদ পর্যন্ত, মুন্সীরহাট ইসলামী ব্যাংক হতে খোকা সাহেবের বাড়ি পর্যন্ত আর.সি.সি ড্রেন নির্মান।
মুন্সীগঞ্জ জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আরিফ উল ইসলাম বাসস’কে বলেন, শহরের প্রধান সড়ক সংস্কার এবং ড্রেন নির্মাণ করায় পৌরবাসীর যাতায়াতের এবং জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। আর.সি.সি রাস্তা হওয়ায় সড়ক টেকসই হবে। কাজের মান রক্ষা করা না গেলে এ উন্নয়ন ভেস্তে যাবে। পৌর এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে ষ্টেষ্ক হোলাল্ডারদের সাথে নিয়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। বিভিন্ন পাড়া মহল্লাকে পৌর উন্নয়নের মাষ্টার প্লানে নিয়ে আসতে হবে।
মুন্সীগঞ্জ পৌর প্রশাসক এবং উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার মৌসুমী মাহবুব বাসস’কে জানান, মুন্সীগঞ্জ পৌরবাসী দীর্ঘদিন ধরে শহরের প্রধান রাস্তায় যাতায়াতে নানান দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সড়কপথে যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শহরের প্রধান রাস্তায় এবং সুপার মার্কেট হতে ১০ তলা পর্যন্ত মানিকপুর রাস্তায়।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা শহরের একটি প্রধান সমস্যা। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বর্তমানে নির্মাণাধীন শহরের আর.সি.সি রাস্তার একপাশে ৭ ফুট গভীর আর.সি.সি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে অর্থের সংস্থান হলে অপরপাশে আর.সি.সি ড্রেন নির্মান করা হবে। মানিকপুর রাস্তা খোড়াখুড়ি বন্ধে পৌরসভার উদ্যোগে তিতাস গ্যাসের লাইন রাস্তার একপাশে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ১০ তলা থেকে সুপার মার্কেট পর্যন্ত রাস্তার পাশে আর.সি.সি ড্রেন নির্মিত হচ্ছে।
পৌর প্রশাসক আরো জানান, ৫৪ কোটি ২৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে চলমান ৩৪ টি উন্নয়ন প্রকল্প সমুহের কাজ সমাপ্ত হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ এবং জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। বর্ষায় যাতে রাস্তার ক্ষতি না হয় সে জন্য প্রধান সড়ক আর.সি.সি করা হচ্ছে। এতে নতুন নির্মিত সড়ক দীঘস্থায়ী হবে।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বাসস’কে জানান, নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৩- ২০২৪ অর্থবছরের ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম প্যাকেজের ১৮টি কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। একই প্রকল্পের ১ম এবং ২য় প্যাকেজের ২২ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৬টি কাজের আর.সি.সি রাস্তা এবং ড্রেন নির্মান কাজ প্রায় শেষের পথে। এসব প্রকল্প সমূহের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭৭ ভাগ। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সকল প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে।