বাংলাদেশে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। গত ২০ আগস্ট নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন (কোবা) আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইয়র্ক বাংলার সম্পাদক রশীদ আহমদ। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংগীতশিল্পী সালাহ উদ্দিন রাসেল।
সভায় এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে বহু শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছি। জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। সরকার মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও কাজে তার উল্টোটা করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার জাতির সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে এবং ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দীর্ঘদিনের। বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, জুলাই বিপ্লবের চেতনা, গণভোট এবং বিপ্লব-পরবর্তী জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণের বিষয়ে বিএনপি কথা দিয়ে কথা রাখছে না। বিএনপি ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে এবং সর্বত্র দলীয়করণের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এহেন পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানান জুবায়ের। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথ ও সংসদে সমান ভূমিকা পালন করবে জামায়াত। আগামী দিনে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে লংমার্চ এবং অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়াজেদ এ খান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, টাইম টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক পরিচয়ের নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার এবং সাপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদসহ আরও অনেকে।