ইউরোপে ভ্রমণে গিয়ে অনেক আমেরিকান পর্যটকই তাদের ওজন কমে যাওয়ার কথা প্রায়ই বলে থাকেন। এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে অনেকে ইউরোপের উন্নত মানের খাবার এবং খাদ্য তৈরির কঠোর নিয়মকানুনকে দায়ী করেন। তবে গার্ডিয়ানের কলামিস্ট আরওয়া মাহদাউই এই বিষয়ে ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তার মতে, খাবারের গুণগত মানের চেয়েও ইউরোপের জীবনযাপন পদ্ধতি এবং দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা ওজন হ্রাসে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে বেশ উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে দূষণ শনাক্ত হওয়া এবং নিয়মিত পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর বিপরীতে ইউরোপে খাদ্য উৎপাদন ও উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা হয় বলে অনেকের ধারণা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, যেখানে অনেকে দাবি করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং নির্দিষ্ট কিছু উপাদানের কারণেই সেখানে ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা বেশি। তাদের মতে, ইউরোপে একই ধরনের খাবারের উপাদান ও প্রস্তুতপ্রণালিতে ভিন্নতা থাকায় পর্যটকরা সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর বোধ করেন। তবে এসব দাবির সপক্ষে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরওয়া মাহদাউই ওজন কমার পেছনে সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে হাঁটার অভ্যাসকে চিহ্নিত করেছেন। ইউরোপের অধিকাংশ শহরে পর্যটকরা ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে হেঁটে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করেন। গণপরিবহন ব্যবহার করতে স্টেশন পর্যন্ত হাঁটা, শহরের অলিগলি ঘুরে দেখা এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পায়ে হেঁটে চলাচলের ফলে পর্যটকদের দৈনিক শারীরিক কর্মকাণ্ডের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ শহরই গাড়িনির্ভর হওয়ায় সেখানে হেঁটে দৈনন্দিন কাজ করার সুযোগ সীমিত। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের স্বাভাবিক হাঁটার পরিমাণ অনেক কম থাকে, যা ইউরোপে গিয়ে কয়েক সপ্তাহ কাটানোর সময় বদলে যায় এবং ক্যালরি খরচ বাড়িয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
তবে ইউরোপে গেলেই যে সব আমেরিকানের ওজন কমবে, বিষয়টি এমন নয়। ছুটিতে মানুষের খাবারের পরিমাণ, ঘুমের ধরন, মানসিক চাপ, অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রা এবং শারীরিক পরিশ্রমের ধরণ—সবকিছুই পরিবর্তিত হয়। তাই ওজন কমার পেছনে একক কোনো কারণ নির্ধারণ করা বেশ জটিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টিকে কেবল ‘আমেরিকার খাবার বনাম ইউরোপের খাবার’ হিসেবে না দেখে সামগ্রিক জীবনযাত্রার পার্থক্য হিসেবে দেখা প্রয়োজন। অর্থাৎ, কম গাড়িনির্ভরতা, বেশি হাঁটা এবং দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক সক্রিয়তাই সম্ভবত বিদেশে গিয়ে অনেক আমেরিকানের সুস্থ বোধ করার মূল কারণ।