1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শেখ হাসিনাকে ধরে আনতে চাই, মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে: ডা. জাহেদ উর রহমান প্রথমবারের মতো দেশের আটটি বিভাগীয় শহরেই হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আফগানিস্তানের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ পাকিস্তান ক্রিকেটের বিশৃঙ্খলা ও আকিব জাভেদের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক জেসন গিলেস্পি সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৪ প্রবাসীর মৃত্যু বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কেনায় স্বচ্ছতা নিয়ে আইনি নোটিস ২০৩০ বিশ্বকাপ: নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে স্পেনের সাথে কাতারের নতুন চুক্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর: গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে জোর তৎপরতা আয়ারল্যান্ডে গাজার শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যান নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ

ছয় মাসের যুদ্ধেও অটল ইরান: যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ইরানকে নত করা সম্ভব হয়নি। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের এই আকস্মিক হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি খামেনির ছেলে ও বর্তমান উত্তরসূরি সাইয়েদ মুজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে এত বড় ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি এবং জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্রোহে নামেনি।

যুদ্ধ শুরুর দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আপনাদের স্বাধীনতার সময় ঘনিয়ে এসেছে।’ কিন্তু ছয় মাস পর সেই প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানকে কাবু করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন এখন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথে হাঁটছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে সরকারকে কোণঠাসা করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক কৌশলও যুক্তরাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে ব্যর্থ হতে পারে। চ্যাথাম হাউসের পরিচালক সানাম ভাকিল এবং ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সুজান ম্যালোনি স্পষ্টভাবেই এই যুদ্ধকে ব্যর্থ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ইরানকে ব্যাপক ক্ষতি করা হলেও দেশটি উল্টো আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

লন্ডনভিত্তিক বোরস অ্যান্ড বাজার ফাউন্ডেশনের গবেষক এসফানদিয়ার বাটমাঙ্গেলিজদ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মূল লক্ষ্যই অস্পষ্ট। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলি ভায়েজ প্রশ্ন তুলেছেন, ওয়াশিংটন কি সরকার পতন চায়, আত্মসমর্পণ চায়, নাকি সমঝোতা চায়? এই অস্পষ্টতা তেহরানের নেতৃত্বকেও দ্বিধায় ফেলেছে।

যুদ্ধের ভয়াবহতায় কয়েক হাজার ইরানি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। বিপরীতে ১৮ জন মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেছে। ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এখন সামরিক সংঘাত কিছুটা স্থবির থাকলেও অর্থনৈতিক অবরোধের নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের বিশেষজ্ঞ এলি গেরানমায়েহ সতর্ক করেছেন যে, হোয়াইট হাউস ও তেহরান উভয় পক্ষই এখন মনে করছে সমঝোতা অসম্ভব, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কর্মকর্তা জেরেমি শাপিরোও ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার কোনো পথ না খুঁজে কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করা হচ্ছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অর্থনৈতিক ধসের ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তবে তেহরান এখনো জুনের সমঝোতা স্মারকে ফেরার অবস্থানে অটল। যদিও ট্রাম্প সেই সমঝোতাকে বাতিল ঘোষণা করেছেন। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইরানকে আঘাত করার সক্ষমতা থাকলেও তাকে নত করার কোনো কার্যকর পথ নেই, যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ ইরানিদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়াশিংটনের নতুন লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতিকে আরো চাপে ফেলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বরং ছয় মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যই এখন প্রশ্নের মুখে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লক্ষ্য, অর্থনীতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শাসকেরা নিজেদের টিকে থাকাকেই দেশের টিকে থাকা হিসেবে দেখছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাধারণ মানুষের ত্যাগকে তারা দেশপ্রেম, এমনকি শহীদের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সামান্যতম ভিন্নমতও কঠোর হাতে দমন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানকে নত করার চেষ্টা যেমন সফল হয়নি, তেমনি ট্রাম্পের ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও এখন অনেকটাই ফাঁপা শোনাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun