ফ্যাসিস্টদের দোসররা বর্তমান সরকারকে অকার্যকর প্রমাণ করতে দেশে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, জ্বালানিসংকট তৈরি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়েছিল, তবে সরকারের কঠোর পদক্ষেপে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
সারসংকট নিয়ে মন্ত্রী জানান, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। তারপরও ফ্যাসিবাদের আমলের ডিলাররা সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পর তিনি জরুরি সভা করেছেন। এই সংকট নিরসনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে একজন করে সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে এলএনজি আমদানিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৯ থেকে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর জন্য উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনা হয়েছে। এছাড়া আগামী তিন বছরের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কয়লা ও গ্যাসের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে জামালপুর ও হবিগঞ্জের অকৃষি জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ চলছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সোলার থেকে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য সেবার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে ‘হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং সেন্টার’ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশে ৪২ হাজার ৩৯০ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। বিশেষ করে নারীদের ব্রেস্ট ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগ দ্রুত নির্ণয় ও মৃত্যুহার কমানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম এবং জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নূরতাজ আলম বাহার। সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেন।