বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সারাহ আলড্রিচ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং সার্বিক উন্নয়নে যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদানে ওয়াশিংটন প্রস্তুত রয়েছে। গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সারাহ আলড্রিচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অন্তর্বর্তী সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন-জি’, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছে, তা বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনুষ্ঠানে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান, গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন, রাষ্ট্র ও সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তন এবং বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম গণঅভ্যুত্থানে নিহত সব শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল-২) নাজনীন সুলতানা। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বার্তা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন মার্কিন এই কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃষি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অগ্রগতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশের ক্রমাগত উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কারণে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান আন্তর্জাতিক পরিসরেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্মরণসভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবনদানকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।