সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। নতুন এই কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এই পরিবর্তনের ফলে ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। তবে বর্ধিত এই বেতন একবারে কার্যকর না হয়ে চার পর্যায়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
আর্থিক চাপ সামলাতে সরকার নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য চারটি ধাপ নির্ধারণ করেছে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় ধাপে ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই মাসে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ যুক্ত হয়ে মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধি পাবে। সবশেষে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতন অনুযায়ী বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে।
দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য কিছুটা ভিন্ন নিয়ম রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রথম ধাপে তাদের বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও জুলাই মাসে যথাক্রমে ২৫ শতাংশ করে বাকি অংশ যোগ করা হবে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের মতোই ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের নতুন মূল বেতন অনুযায়ী আনুষঙ্গিক ভাতা প্রদান করা হবে।
উদাহরণস্বরূপ, ২০১৫ সালের স্কেল অনুযায়ী নবম গ্রেডে যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। নতুন স্কেলে তার বেতন বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা হবে। প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তার বর্তমান বেতনের সঙ্গে ৮ হাজার ৮০০ টাকা (৪০ শতাংশ) যুক্ত হবে। পরবর্তীতে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও জুলাই মাসে ৬ হাজার ৬০০ টাকা করে দুই দফায় যোগ হয়ে মূল বেতন ৪৪ হাজারে পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হওয়ায় বাস্তবে বেতন এর চেয়ে কিছুটা বেশি হবে। চাকরির আরও তথ্য: পে-স্কেল উঠছে মন্ত্রিসভায়, ৩০% দিয়ে শুরু, বেতন বাড়বে ৪ ধাপে। চাকরির আরও তথ্য: গত জুলাই থেকে নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা বলা হলেও, বর্ধিত বেতনের সুবিধাগুলো নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ, সরকারি নিয়মে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারের ১৮০ দিনে প্রকাশিত ই-বুকে যা আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি বছরেই পে-স্কেল ঘোষণা: অর্থমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২ বছরের মধ্যে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাব, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা।