সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসার পথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি ওমানের মাসকাট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) আকাশপথে থাকা অবস্থায় এক যাত্রীর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটলে পাইলট জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত ওই যাত্রী মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে উড়োজাহাজটি (নিবন্ধন নম্বর এস২-এএফপি) মাসকাট বিমানবন্দরে অবস্থান করছে।
ওমানের স্থানীয় আইন ও বিমানবন্দর সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধের কারণে উড়োজাহাজ থেকে মরদেহ নামানো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো উড়োজাহাজ থেকে মরদেহ হস্তান্তরের আগে রয়্যাল ওমান পুলিশের আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রয়োজন। বুধবার দিনগত সময় পর্যন্ত সেই অনুমতি না পাওয়ায় মরদেহটি উড়োজাহাজের ভেতরেই রাখা হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহ নামানোর অনুমতি পাওয়ার পরই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইটটির পরবর্তী যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যার ফলে বিমানে থাকা অন্যান্য যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুধবার বেলা ১১টায় ফ্লাইটটির ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে জরুরি অবতরণের কারণে পুরো যাত্রাপথ ও সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ফ্লাইটটি কখন পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি বিমান কর্তৃপক্ষ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। অনুমতি পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ মৃত যাত্রীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মৃত যাত্রীর পরিচয় বা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার (২৬ আগস্ট) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ফ্লাইটে থাকা অন্য যাত্রীরাও।