টানা বৃষ্টিপাত ও জ্বালানি সংকটের নেতিবাচক প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁও, হাতিরপুল ও মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে থাকা ২১ ধরনের সবজির মধ্যে মাত্র পেঁপে ও বড় করলা ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে। বাকি সবজির দাম চড়া, যার মধ্যে কোনো কোনোটি ১০০ টাকা বা তারও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের চিত্র অনুযায়ী, প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং বড় করলা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিষ্টি কুমড়া, কাঁকরোল, পটল, শসা ও ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটির দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বেগুনের বিভিন্ন জাতের মধ্যে কালো গোল বেগুন ১০০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গাজর ও টমেটো প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচু ৬০ টাকা পিস, ছোট করলা ৮০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। লাউয়ের দাম আকারভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা এবং শাকের আঁটি ২০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির মৌসুমে সাধারণত কচুর লতি, পটল বা ঢ্যাঁড়সের মতো সবজির সরবরাহ বাড়ার কথা থাকলেও এবার চিত্র ভিন্ন। বিক্রেতা আমির জানান, দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে। আরেক বিক্রেতা মিজানের মতে, চাষাবাদ কমে যাওয়া এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পাইকারি বাজারে দাম বেশি, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংস ও ডিমের বাজারও অস্থির। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা। মাছের বাজারে বাইন মাছ ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছের দাম আকারভেদে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বমুখী দামে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সবুজ আহমেদ জানান, মাছ-মাংসের দাম দীর্ঘদিন ধরেই বেশি, এখন সবজির দামও সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজার মনিটরিং জোরদার করা হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে তিনি মনে করেন।